ফেনীর ৩টি পৌরসভায় বিনাভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন প্রায় ৭৩ শতাংশ কাউন্সিলর।

আপডেট : December, 10, 2015, 1:44 am

বিশেষ প্রতিনিধি>>
ফেনীর ৩টি পৌরসভায় বিনাভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন প্রায় ৭৩ শতাংশ কাউন্সিলর। ফেনী পৌরসভায় ৭৫ শতাংশ, দাগনভূঞা পৌরসভায় ৫৮.৩৩ শতাংশ ও পরশুরাম পৌরসভায় ৮৩.৩৩ শতাংশ কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হচ্ছেন। এ নিয়ে পৌরসভার সাধারণ ভোটার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফেনী, দাগনভূঞা ও পরশুরাম পৌরসভার ৪৮টি কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের কথা থাকলেও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন পর্যন্ত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৫ কাউন্সিলর নির্বাচিত হচ্ছেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের দেয়া সময়সূচী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এ তিনটি পৌরসভায় মাত্র ১৩ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী ওয়ার্ড আরো কমে আসতে পারে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
ফেনী পৌরসভায় ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র জমাদানের শেষ দিন পর্যন্ত ১৮টি ওয়ার্ডে ২৪ কাউন্সিলর ও মেয়র পদে ৪০ প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ১৮ প্রার্থী। মনোনয়ন দাখিলে শেষ দিন পৌরসভার ১৬টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক বিজয় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন। পরবর্তীতে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর এ পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ফজলুর রহমান বকুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মজুমদারসহ দুই কাউন্সিলরের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। ফলে পৌর সভার ৮, ১২, ১৪, ১৮ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩,১৪,১৫ এবং ১৬,১৭,১৮ ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দাগনভূঞা পৌরসভায় আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো: ওমর ফারুক খাঁন ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাজী সাইফুর রহমান স্বপনসহ ২৭ কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডের ১২ কাউন্সিলর পদের মধ্যে ৭ প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে। ফলে কোন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার না করলে ১,২,৪,৭,৮ নং ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পরশুরাম পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল বিনাপ্রদ্বিন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড ও একটি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় ১০ কাউন্সিলর প্রার্থী জয় ঘোষণার অপেক্ষায়। ফলে এ পৌরসভায় ৪,৫,৬ ও ৭,৮,৯ সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন মিষ্টার বলেন, সরকারী দলের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি ও তাদের বাড়ী-ঘরে হামলা করে তাদের নেতাকর্মীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাঁধা দেয়।
এ অভিযোগ প্রত্যাক্ষান করে ফেনী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে থাকা বাহার উদ্দিন বাহার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আ’লীগ সমর্থিত কাউন্সিলরা ওয়ার্ডে উন্নয়মূলক ও সামজিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ফলে নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কায় অন্য প্রার্থীরা নিজেদের সরিয়ে নেন।
মানবাধিকারকর্মী এডভোকেট কায়কোবাদ সাগর জানান, মানুষ নির্বাচন ও রাজনীতিকদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। ফলে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ইলেকশান ওয়ার্কিং গ্রুপ’র ফেনী জেলা সমন্বয়ক এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য একটি অংশ। প্রতিযোগিতাহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে মানুষ নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।