সবাই তাকিয়ে ভাইয়ের দিকে

আপডেট : December, 14, 2015, 7:21 pm

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার বাসিন্দারা পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে চান। প্রার্থীরা চান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তবে সবাই তাকিয়ে আছেন ‘ভাই’-এর দিকে।
এই ‘ভাই’ হলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, সাবেক চিফ হুইপ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। গতকাল সোমবার সারা দিন উজিরপুরের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ, পৌর নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এখানকার নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছেন।
এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, এ নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী। আর বিএনপির প্রার্থীরা ভুগছেন ‘অজানা আশঙ্কায়’।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র দুই বছর আগে পৌরসভা ঘোষণার পর জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার বিষয়ে এলাকাবাসীর আগ্রহ আছে। তবে ভোটের দিনের পরিবেশ কেমন হবে, এই দুশ্চিন্তা তাঁদের সেই উৎসাহে পানি ঢেলে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি, উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এবারও হয়তো একই ঘটনা ঘটবে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, স্থানীয় রাজনীতি ও নির্বাচন-সম্পর্কিত বিষয়গুলো ‘হাসানাত ভাইয়ের’ নিয়ন্ত্রণে। শুধু উজিরপুর নয়, নিজ সংসদীয় এলাকাসহ গোটা বরিশাল জেলার রাজনীতি তাঁর নিয়ন্ত্রণে। পৌর নির্বাচনের পরিস্থিতিও নির্ভর করছে তাঁর ওপর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন ব্যাপারী সরাসরি কোনো জবাব দেননি। গতকাল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাইকে সবাই মানে।’ নিজেকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ‘স্নেহধন্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় তিনজন নেতা বলেন, প্রথমে উজিরপুর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১০ জন মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর অন্য কোনো প্রার্থী ‘ভাই’-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস করেননি।
ভোট দেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা আছে, এই বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ভোট দেওয়া নিয়ে শঙ্কা সব সময় থাকবে। যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখনো ভোট দেওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল। তিনি বলেন, উজিরপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সহাবস্থানের মাধ্যমে নির্বাচনের কাজ করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, হয়রানি-মামলার ভয়ে অসংগঠিত বিএনপি নির্বাচনের মাঠে আছে, আবার েনইও। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের ৪০ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর মধ্যে পাঁচটি ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী সাতজন। দু-একজন স্বতন্ত্র ও অন্য দলের প্রার্থী বাদ দিয়ে বাকি সব আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নয়জন নারী প্রার্থীর সবাই আওয়ামী লীগের। ১০ হাজার ২৯৭ ভোটারের এ পৌরসভায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।
উজিরপুরের বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান এলাকায় ছিলেন না। দুপুরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, তিনি ‘ব্যক্তিগত কাজে’ বরিশাল গেছেন, দুপুরে ফিরবেন। পরে বেলা দুইটার দিকে তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি কথা হয়। তিনি দাবি করেন, উজিরপুরে বিএনপির ভোট বেশি। নির্বাচন উপলক্ষে তাঁরা মাঠেও আছেন। তবে এখানেসহ পুরো বরিশাল জেলায় ‘ভাই’ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর দিকেই সবাই তাকিয়ে আছে।
বিএনপি মাঠে থাকলে এলাকাবাসী কেন নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি টের পাচ্ছেন না—এই প্রশ্নের জবাবে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার-হয়রানির ভয়ে তাঁরা একটু কোণঠাসা। বিএনপির কোনো প্রার্থী বা নেতা-কর্মীকে হয়রানি করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, না হয়নি। তবে আশঙ্কা আছে। এ জন্য ‘কৌশলগত কারণে’ বিএনপি ঝামেলা এড়িয়ে কাজ করছে।
উজিরপুর থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, ভোটের বিষয়ে আশঙ্কা অমূলক ও ভিত্তিহীন।