১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে গেমটি

আপডেট : December, 14, 2015, 7:06 pm

১৯৭১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ১৫ মিনিট। বরিশালের শনিরচর গ্রাম, যা মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের অধীন। পাঁচজনের কমান্ডো দলের প্রত্যেকের মুখে কালো কালি মাখা। দুজনের হাতে লাইট মেশিনগান, একজনের হাতে একটা হেভি মেশিনগান, আর বাকি দুজনের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ইস্যু রাইফেল। প্রত্যেকের বেল্টেই তিনটি করে গ্রেনেড। গ্রেনেড দামি জিনিস, তাই সাবধানে খরচ করতে হয়। নেহাত দায়ে না পড়লে ব্যবহার করার অনুমতি নেই। কবির, বদি, সজল, তাপস আর শামসু কমান্ডো বাহিনীর পাঁচজনের নাম হলেও মিশনে এক অন্যকে স্পেসিফিক কল সাইন ধরে ডাকতে হয়। কমান্ডো লিডার শামসু, তার নামেই বাহিনীর লোকমুখে নাম শামসু বাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার শামসুল আলম, সাধারণ শ্রমিক কবির মিয়া, মেডিকেল শিক্ষার্থী তাপস মৈত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সজল ওরফে মাহবুব চৌধুরী, ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী বদিউজ্জামান ওরফে বদি। মধুমতীর পাশে শনিরচর গ্রামে একটা স্কুলে থাকা পাকিস্তানি আর্মির ক্যাম্প তাদের দখল করে নিতে হবে। যাতে বরিশালে মুক্তিবাহিনীর পেনিট্রেট করার পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।  ফলে ডাক পড়েছে ‘শামসু বাহিনীর’।

এমন গল্প নিয়েই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন ‘হিরোজ অব ৭১’ নামের একটি গেমস।  পোর্টব্লিস গেমস নামের প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মাতাদের তৈরি এটিই প্রথম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গেমস। প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও ডেভেলপমেন্ট প্রধান মাশা মুস্তাকিম গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ে গেম তৈরির কাজ করছি। তবে এবারই প্রথম মুক্তিযুদ্ধের আবহ নিয়ে আমরা হিরোজ অব ৭১ গেমটি তৈরি করলাম।’

আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে গেমটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে বলেও জানান তিনি। গেমটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের চরিত্রেই খেলতে পারবেন গেমাররা।