ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যার আজ ২ বছর

আপডেট : May, 20, 2016, 12:24 pm

জহিরুল আলম কামরুল->>>
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যার আজ ২ বছর
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যার আজ ২০ মে ২ বছর পূর্ন হলো। আলোচিত এই হত্যা মামলার ৫৬ জন আসামীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। তম্মধ্যে বর্তমানে ৪ জন জামিনে এবং ১২ জন পলাতক রয়েছে। মামলার ৫৯ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ইতিমধ্যে ৩ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছে।
ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামের বড় ভাই মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এদেশের বিচার ব্যবস্থা বৈপ্লবিক পরিবর্তন হলে আমরা এধরনের হত্যা কান্ড থেকে সবাই মুক্তি পাবো। আমরা আশা করি বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় সরকার আন্তরিক হলে একরাম হত্যার সুষ্ঠ বিচার পাবো।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরামকে ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় ফুলগাজী উপজেলায় যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে, গুলি করে ও গাড়ীসহ পুড়িয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান একরামুল হকের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরীসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামী করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। একই বছরের ২৮ আগস্ট ফেনী মডেল থানা পুলিশ ৫৬ জনকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তম্মধ্যে বর্তমানে ৪ জন জামিনে এবং ১২ জন পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন হত্যাকান্ডের ঘটনার সঙ্গে কোন না কোনভাবে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বাকি ১২ জন আসামী এখনো পলাতক রয়েছেন। ৫৬ আসামীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরী ছাড়া অন্য সব আসামী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের বড় ভাই মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, প্রতিবছর এই দিনটি এলেই তার কথা বেশী মনে পড়ে। বিশেষ করে তার ছোট ছোট এতিম বাচ্চাদেরকে চোখে দেখলেই তার কথা মনে উঠে। এত অল্প বয়সে সে প্রাণ হারাতে হবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, এদেশের বিচার ব্যবস্থা বৈপ্লবিক পরিবর্তন হলে আমরা এধরনের হত্যা কান্ড থেকে সবাই মুক্তি পাবো। আমরা আশা করি বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় সরকার আন্তরিক হলে একরাম হত্যার সুষ্ঠ বিচার পাবো।
আসামী পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট মেজবা উদ্দিন খান জানান, মামলার এজাহারে বলা হয়েছে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার কারনে তারা সন্দেহ করেছে, মিনার এঘটনা ঘটাতে পারে। বাস্তবে মিনারকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য আসামী করা হয়েছে। মামলার বাদী স্বাক্ষ্য দিয়েছেন, তার ভাই একরামের সাথে দু’বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছে। সর্বশেষ নির্বাচনের আগেও মিনারের লোকজন তার ভাইয়ের গাড়ী পুড়িয়েছে। তাদের কথা একটাই মিনার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে এই হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারে।
ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারী কৌঁসুলী (পিপি) এডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ জানান, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার ৫৬ জন আসামীর মধ্যে ৪৪ জন গ্রেফতারের মধ্যে ৪০ জন জেল হাজতে, ৪ জন জামিনে এবং ১২ জন পলাতক রয়েছে। মামলার ৫৯ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ইতিমধ্যে ৩ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছে। আগামী ২৫ মে মামলার পরবর্তী স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহনের তারিখ ধার্য রয়েছে।