নানামুখী প্রচারের পরও শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোয় মিলছে না শতভাগ সাফল্য

আপডেট : August, 7, 2016, 4:25 pm

জহিরুল আলম কামরুল->>>

প্রতিবছর বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (৭ আগস্ট) পালিত হয়। সারাদেশের ন্যায় ফেনী জেলাও তার ব্যতিক্রম নয়। শিশুদেরকে ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ালে ভালো এটা বুঝার পরও সচেতন মায়েরা তা পালন করলেও শহরের অধিকাংশ মায়েরা তাদের সৌন্দয্য নষ্ট হওয়ার ভয়ে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকেন। আবার অনেকে জানান, বাচ্চা বুকের দুধ না পাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় বাহিরের কৌটার দুধ খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে সরকারী হাসপাতালে মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বেস্ট ফিডিং কর্ণার থাকলেও প্রচারনার অভাবে বেশীরভাগ মায়েরাই তা জানেন না। ফলে হাসপাতাল আসা মায়েরা শিশুদেরকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য সমস্যায় পড়তে হয়। শুধুমাত্র প্রচারনার অভাবে তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বেস্ট ফিডিং কর্ণার খোলা থাকে। তবে সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তা বন্ধ থাকে। তবে যে সকল মায়েরা বেস্ট ফিডিং কর্ণারের ব্যাপারে জানেন শুধু তারা গেলে তা খুলে দেওয়া হয়।
ফেনী ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট (শিশু) ডাঃ গাজী গোলাম মোস্তফা জানান, মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই। শিশু মায়ের থেকে প্রথম যে দুধটা পায় এটাকে শাল দুধ বলা হয়। এই দুধ শিশুর টিকা হিসেবে কাজ করে। এই কোলস্টোরেল পেলে বাচ্চার পায়খানা হয়। বাচ্চা হওয়ার পর মায়ের জরায়ু থেকে যে রক্ত যায় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা তাড়াতাড়ি কমে যায় এবং জরায়ুও স্বাভাবিক হয়।
ফেনী ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ অসীম কুমার সাহা জানান, সরকারী হাসপাতালে বেস্ট ফিডিং কর্ণার রয়েছে। মায়েরা সেখানে বাচ্চাদের দুধ খাওয়ায়। মায়েরা তাদের শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বেস্ট ফিডিং রুম রয়েছে এবং তা খোলা থাকে বলে জানান।
ফেনী সিভিল সার্জন ডাঃ হাসান শাহ্রিয়ার কবীর জানান, কোন কোন শিশু খাদ্য বাজারে থাকতে পারবে অথবা কোনটা পারবে না। যে খাদ্য গ্রহন করলে পুষ্টি পূরণ হবে শুধু সেখাদ্য গুলোই বাজারে থাকবে, অন্য গুলো থাকবে না। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সাথে আলাপ করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সহসাই ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিশু খাদ্যের কোম্পানী গুলো যেন প্রচারণা করতে না পারে সে ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।