সোনাগাজীতে আখ চাষের আবাদ হারিয়ে যাচ্ছে

আপডেট : August, 22, 2016, 9:36 am

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>

কৃষি কাজে সমৃদ্ধ উপজেলা হিসাবে সোনাগাজীতে লাভজনক অর্থকরী ফসল আখ চাষের আবাদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের অনুকুল হলেও শুধুমাত্র কৃষি ঋণ ও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখানকার চাষীরা আখচাষে আগের মতো উৎসাহ পাচ্ছে না।
প্রান্তিক চাষী ও কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে যে, আবহমান কাল থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় কম বেশী সকল গ্রামে কৃষকরা আখ চাষের আবাদ করত। এখন হাতে গোনা কয়েকটি গ্রামে বিশেষ করে নবাবপুর, কুঠির হাট, সোনাপুর, ভৈরব চৌধুরী হাট, সুলাখালী, ছাড়াইতকান্দি, সুজাপুর, চরডুব্বা, বাখরিয়া, মহেশ্চর ও সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামে স্বল্পপরিসরে আখের চাষ হয়ে আসছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে যে, চলতি বছর এ উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। সময়মত বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া অনুকুল থাকায় আখের ফলনও ভাল দেখা যাচ্ছে। সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের আখচাষী আবদুল হালিম জানায়, চলতি বছর তিনি প্রায় ৪০ শতক জমিতে আখ চাষের আবাদ করেছেন। সার, কীটনাশক সহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা উৎপাদন খাতে তার ব্যয় হয়েছে। তিনি আশা পোষণ করেছেন, যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে আখ বিক্রি করে চলতি মৌসুমে ৪০ হাজার টাকা লাভ করবেন। একই গ্রামের আখ চাষী ইসমাইল, মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তারা বিগত ১৫ বছর যাবত আখ চাষ করে আসছেন। অনেকটাই তাদের পৈত্রিক পেশা হিসেবে তারা নিজেরা এ পেশা ধরে রেখেছে।
আখ চাষীরা আরো জানান, তাদের আখ চাষের আবাদের পুরো মুলধনই ঋণের টাকা। কৃষি ব্যাংক থেকে তারা কৃষি ঋণের আবেদন করেও কোন দিন কৃষি ঋণ পায়নি। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সুদমুক্ত কৃষি ঋণ পেলে তারা আরো বেশি পরিমাণ জমিতে আখ চাষের আবাদ করতে পারতেন। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উপজেলার বাহিরেও তারা আখের চালান দিতে সক্ষম হত।
সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইমাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, তার এলাকাসহ পুরো উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের বেশ উপযোগী। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা এবং সুদমুক্ত কৃষি ঋণ পেলে অর্থকরী এবং লাভজনক এ কৃষি পণ্যের আবাদে চাষীরা আরো বেশি পরিমাণে উৎসাহি হতো।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উৎবিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো: আকরাম উদ্দিন জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদেরকে আখ চাষের রোগবালাই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয় এবং সঠিক পরিমাণে কীট নাশক ব্যবহার সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উচুঁ স্থানগুলোতে আখ চাষ করতে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করে থাকি। কিন্তু তারা পর্যাপ্ত মূল ধরণের অভাবে দিন দিন আখ চাষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে করে আগামীতে এ উপজেলায় আরো বেশি পরিমাণে আখ চাষ হয়।