ফেনী কলেজের অফিস সহকারির কাছে জিম্মি অনার্সের ১০ হাজার শিক্ষার্থী

আপডেট : August, 23, 2016, 11:14 am

বিশেষ প্রতিনিধি->>>

ফেনী কলেজের অফিস সহকারির কাছে জিম্মি অনার্সের ১০ হাজার শিক্ষার্থী  ।  কুমিল্লা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শফিকুল আলম এসেছিলেন ফেনী সরকারি কলেজে বদলী হতে। অফিস সহকারি শিব শংকরের দ্বারস্থ হলে ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীর কাছে দাবী করা হয় ৩০ হাজার টাকা। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইনে আবেদন সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও তাকে সহযোগিতা করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। শুধু শফিকুল আলমই নয় ফেনী কলেজের ৩য় শ্রেনীর এ কর্মচারীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে অনার্স এর বিভিন্ন বর্ষে অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী। কলেজের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে তিনি প্রকাশ্যে এসব অসাধু কর্মকান্ড করায় কেউ মুখ খুলতে সাহস করেননা।
একাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফেনী সরকারি কলেজে অনার্সের ১৫টি বিষয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। বদলী, সার্টিফিকেট সংশোধন, সার্টিফিকেট ও মার্কশীট সংগ্রহ সহ সবকাজেই টাকা দিতে হয় অফিস সহকারি (অনার্স দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত) শিব শংকরকে। টাকা না দিলে অহরহ হয়রানির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণও করেন তিনি। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রায়ই বাকবিতন্ডা হয়।
২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শাখাওয়াত হোসেন সার্টিফিকেট আনতে গেলে ৫শ টাকা দাবী করেন তিনি। বিষয়টি তাৎক্ষনিক অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়। ৪র্থ বর্ষ পাশ করেছে এমন সব শিক্ষার্থীকে টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবরিনা আক্তার প্রিয়তিও বলেন একইকথা। রেজিষ্ট্রেশন কার্ডের নষ্ট ছবি পরিবর্তন করতে গেলে দূর্ব্যবহার করে শিব শংকর। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তার কাছে কোন কাজের জন্য গেলে উল্টো নাজেহালের শিকার হন শিক্ষকরা। এসব ঘটনা অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ জানলেও কার্যকরি কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী নিশাত লায়লা খান এসএসসি ও এইচএসসি মার্কশীট বিশেষ প্রয়োজনে উত্তোলন করতে চাইলে নানা বাহানা দিয়ে হয়রানি করেন। একপর্যায়ে তার বাবার কাছ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা উৎকোচ নিয়ে উল্লেখিত কাগজপত্র উত্তোলন করেন।
১২-১৩বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী সাজেদা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরী পান। ভর্তি বাতিল করে কাগজপত্র উত্তোলন করতে গেলে ৩ হাজার টাকা দাবী করেন। টাকা কম নিতে সুপারিশ করলে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মহীউদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ওই সুপারিশের কপিটি ছুঁড়ে ফেলে দেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিব শংকর। তিনি জানান, কাগজপত্র উত্তোলন সহ কলেজের যাবতীয় কাজ অনলাইনে হয়।
কলেজের প্রধান অফিস সহকারি আবদুল মান্নান জানান, শংকর সহ একটি চক্র এসব অপকর্ম করে ছাত্র-ছাত্রীদের হয়রানি করছে। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে তার কিছু করার নেই।
একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, শংকর, সতিষ, গোস্বামী সহ কয়েকজন অফিস সহকারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কাগজপত্র হারিয়ে গেলে এ সিন্ডিকেটের লোকজনকে দ্বারস্থ হলে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ ফেনীর সময় কে বলেন, মাঝে মধ্যে দু’একটি অভিযোগ পেয়েছি। সুনির্দিষ্টভাবে কেউ অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।