সোনাগাজীতে পুলিশী পাহারায় ফুটবল খেলা সাংসদ হাজী রহিম উল্যাহ বললেন, ফেনীর মানুষ শান্তিতে নাই বিয়ে বাড়িতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে

আপডেট : October, 29, 2016, 1:26 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দু’এমপির সমর্থকদের উত্তজনার কারণে কড়া পুলিশ পাহারার মধ্যে দিয়ে খেলা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফেনী- ৩ আসনের সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহ বলেছেন, ফেনীর ১৬ লক্ষ মানুষ আজ শান্তিতে নাই। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিয়ে বাড়িতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। আমার সহযোগিতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সোনাগাজীকে সিঙ্গাপুরে পরিণত করছেন। খুব সহসা সোনাগাজী ও দাগনভূঞায় ৯টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। সোনাগাজী উপজেলায় কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। ফেনীতে আবু জেহেলের বংশধর সৃষ্টি হয়েছে। তারা অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা পালাবার পথ পাবেনা। তারা আমাকে উন্নয়নে বার বার বাধাগ্রস্ত করছেন। আজকে আ’লীগ নেতার নামে আয়োজিত খেলায়ও বাধা দেয়া হয়েছে। আমাকে বাধাগ্রস্ত করা মানে এলাকার উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করা, উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করা মানে আপনাদেরকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা। আপনার জেনেছেন, বাংলাদেশ আ’লীগের ২০ তম সম্মেলন অত্যন্ত শান্তি শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা আপার আত্মীয় পরিচয় দিত, তারা কোন সদস্য পদও পাননি। এখন তারা কি বলবেন? সাবেক মেম্বার আজাদ হোসেন কিরণ মেম্বারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা স্বেচ্ছােসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেনের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির, পৌর আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফছার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সৈয়দ দীন মোহাম্মদ ও মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শেখ ফরিদ দরদী। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, শেখ শামীম, হাজী খোকন ও বেলায়েত হোসেন রিপন প্রমূখ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, কুদ্দুস মিয়ার হাট মোশাররফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় নব তরুন সংঘের উদ্যোগে সাবেক আ’লীগ নেতা মরহুম জাহিদুল ইসলামের নামে ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজন করা হয়। শনিবার বিকালে উক্ত টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহকে প্রধান অতিথি করা হয়। তার আগম উপলক্ষ্যে তার অনুসারীরা কুদ্দুস মিয়ার হাটে ব্যানার ফেস্টুন লাগান। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে কে বা কারা শত শত বোমা ফাটিয়ে ব্যানার ফেস্টুন গুলো ছিঁড়ে নিয়ে যায় এবং স্কুলের প্রধান ফটকে ৫টি তালা ঝুলিয়ে দেয়। এছাড়া খেলার মাঠের গোল বার (গোল পোস্ট) ভেঙ্গে নিয়ে যায়। সকালেও ব্যাপক ফাটানো হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে আয়োজকরা উক্ত তালা গুলো ভেঙ্গে আবার খেলার আয়োজন করে। এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে খেলা বন্ধের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য সোনাগাজী মডেল থানার ওসির নিকট উক্ত আবেদন প্রেরণ করেন। তারই সূত্র ধরে
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফেনী ও সোনাগাজী থানা থেকে ৮০ জন পুলিশ নিয়োগ করা হয়। ব্যবস্থা করা হয় কড়া নিরাপত্তার। কড়া পুলিশী পাহারায় অনুষ্ঠিত খেলায় স্বরাজপুর মিউজিক লাইটিং হাউজ ২-১ গোলে তুলাতলি গ্লোরিয়াস একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেনী- ২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর সাথে ফেনী -৩ আসনের সাংসদ হাজী রহিম উল্যাহর দ্বন্দ্বের জের ধরে দু’এমপির সমর্থকদের মাঝে এ উত্তজনার সৃষ্টি হয়েছিল। ফুটবল খেলার আয়োজকরা সাংসদ হাজী রহিম উল্যাহর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির জানান, যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এবং অত্যন্ত সুন্দর ভাবে খেলা সম্পন্ন হয়।