নেত্রকোনার কলমাকান্দার ইউএনও কে রিভালবার হাতে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফখরুল

আপডেট : November, 10, 2016, 5:38 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামানকে ওই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. ফখরুল ইসলাম প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ইউএনও জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। মো. ফখরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক সমন্বয় সভা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সভাস্থলে উপস্থিত হন। সভার সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মো. ফখরুল ইসলাম আসতে দেরি করছিলেন। এ অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউএনও তাঁর মুঠোফোনে ফোন করেন। এ সময় ফখরুল জানান, তিনি আসছেন। বেলা ১১টার দিকে উপস্থিত সব সদস্য সভার কার্যক্রম শুরু না করেই উঠে চলে যান। এরপর বেলা সোয়া ১১টার দিকে মো. ফখরুল ইউএনও মো. সাইদুজ্জামানের কক্ষে ঢুকে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে ইউএনওকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ইউএনও বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান আমার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে উপস্থিত সবার সামনে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। তিনি বলেন, তুই এত সাহস কোথায় পেলি। তোকে আজ কাফনের কাপড় পরাব। এ কথা বলে তিনি তাঁর পকেটে থাকা রিভলবারে হাত রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘সভার সভাপতির আসতে দেরি হওয়ায় আমরা সবাই মিলে সভা না করে মুলতবি রেখে উঠে যাই। কিছুক্ষণ পরে চেয়ারম্যান আমাদের সবার সামনে ইউএনওকে খারাপ কথা বলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাঁর মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ পদের জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ কাম্য হতে পারে না।’
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, ‘সমন্বয় কমিটির সভাপতি আমি। সভা শুরু ও মুলতবি করার এখতিয়ার আমি ছাড়া অন্য কারও নেই। ইউএনকে গালিগালাজ বা প্রাণনাশের হুমকি দিইনি। অসুস্থতার কারণে আমার আসতে একটু দেরি হয়েছিল। আমার অনুপস্থিতিতে সভা শুরু এবং মুলতবি কেন করা হয়েছে এ কথাই শুধু জিজ্ঞাসা করেছি মাত্র। এর বেশি কিছু নয়।’
জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান ইউএনওকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। ইউএনওকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
সূত্র : প্রথম আলো অনলাইন