ফেনীতে দু’শিশু সন্তান সহ গৃহবধুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের

আপডেট : December, 13, 2016, 7:00 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
ফেনীতে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মা ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন মাসুম। মঙ্গলবার বিকেলে অজ্ঞাত আসামী করে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে দুপুরে ফেনী জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে নিহত তিন জনের ময়নাতদন্ত শেষে ভিসেরা রির্পোটের জন্য আলামত সংগ্রহ করেছে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা।
নিহত মুক্তার ভাই ও মামলার বাদি আনোয়ার হোসেন মাসুম জানান, পুলিশ জিঙ্গাসাবাদের জন্য সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেলে পর্যন্ত তাকে ফেনী থানায় বসিয়ে রাখে। মঙ্গলবার বিকেলে মামলা সংক্রান্ত কয়েকটি পেপারে তার স্বাক্ষর নেয় পুলিশ। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি থানায় জব্দ করে রাখে।
নিহত মুক্তার মা সবুরা খাতুন কাজল মুক্তা ও দুই নাতী নাতনীর মৃত্যুতে বার বার মুচ্ছা যাচ্ছে। তিনি কোন ভাবেই মেয়ে ও নাতী-নাতনীদের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেনা। তিনিসহ পরিবারের স্বজনা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছেন।
ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অসীম কুমার সাহা জানান, তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. রোকসানা বেগম স্বপনা ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় কুমার পাল নিহতদের ময়নাতদন্ত করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে ভিসেরা রির্পোটের জন্য দুই শিশু ও মা’র বেশ কিছু উপাদন সংগ্রহ করেছেন। যা সিআইডি চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হবে। তবে ময়নাতদন্তে কি পাওয়া গেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে অপরারোগতা প্রকাশ করেন।
ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদ খান চৌধুরী জানান, মা ও দুই সান্তন নিহতরে ঘটনায় মা’র বড় ভাই আনোয়ার হোসেন মাসুম বাদি হয়ে থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। নিহত মুক্তার ও ভাই মাসুমের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
ফেনী পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক জানান, নির্মম এর মৃত্যুর ঘটনার রহাস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওয়াতয় এনে উপযুক্ত বিচার করা হবে।
নিহত মুক্তার চাচা মাওলানা অলি আহম্মেদ জানান, দশ বছর আগে সোনাগাজীর কুঠির হাটের প্রবাসী তারেক আহম্মেদের সাথে তার বড় ভাইয়ের মেয়ে মর্জিনা আক্তার মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকা অবস্থায় কয়েকবাব দেশ পরিবর্তন করে। বর্তমানে তারেক ইটালি অবস্থান করায় ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে মুক্তা বছর খানের আগে শহরের পশ্চিম উকিল পাড়ার একটি বাসায় ভাড়া থাকতো। মুক্তার বড় মেয়ে তাসনিম আহম্মেদ শহরের সেন্ট্রাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছিলো। অতিসম্প্রতি মুক্তার সাথে প্রবাসী স্বামী তারেকের মুঠোফোনে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হচ্ছিল। তবে সেটি যে এমন নৃংশস ঘটনায় পরিণত হবে তা কেউ ধারণা করতে পারেনি।
প্রসঙ্গত; গত সোমবার সন্ধ্যায় রাতে শহরের রামপুর এলাকার পশ্চিম উকিল পাড়ার বখতেয়ার ভূঁইয়া বাড়ির আবদুর রউপ ভূঁইয়া নিবাসে একটি ঘর থেকে মা মর্জিনা আক্তার মুক্তা (৩০), মেয়ে তাসনিম আহম্মেদ (৮) ও ছেলে মাহিম আহম্মেদের (৫) ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।