বিএনপির প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে দাবি করলেন ষ্ট্রপতি

আপডেট : December, 18, 2016, 4:47 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে বিএনপির দেয়া প্রস্তাব ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
রোববার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসলে তিনি একথা বলেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বিএনপি প্রতিনিধিদলকে বলেছেন- আজকের আলোচনা এবং আপনাদের সুচিন্তিত মতামত শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আলাপ-আলোচনায় মাধ্যমে যে কোনো ইস্যু সমাধানের বহু পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস- আপনাদের প্রস্তাবসমূহ পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এক ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকে রাষ্ট্রপতি একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জানান, সংলাপে বিএনপি চেয়ারপারসন একটি সার্চ কমিটি ও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে তার দলের প্রস্তাবসমূহ তুলে ধরেন। তিনি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন এবং গণপ্রতিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের জন্য তার দলের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।
এসময় আলোচনার জন্য বিএনপিকে আহ্বান জানানোয় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, তার দল নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
বিএনপির ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলে অন্যরা হলেন- মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। তারই অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতি আগামী ২০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির সঙ্গে, ২১ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে এবং ২২ ডিসেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) সঙ্গে বৈঠক করবেন।