সোনাগাজীতে ৮ বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মিল্কভিটার দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানা খামারীরা হতাশ

আপডেট : January, 16, 2017, 1:45 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
সোনাগাজীতে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লি. (মিল্কভিটা) দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানা স্থাপন হওয়ার পর দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারীদের মধ্যে যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছিল -৮ বছরের মাথায় তা হতাশায় রূপ নিয়েছে।
মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ ও খামারী সুত্র জানায়, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিঃ (মিল্কভিটা) ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় প্রতিদিন পাঁচ হাজার লিটার সংরক্ষণ ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি দুগ্ধ শীতলীকরন কারখানা স্থাপন করে। এতে সোনাগাজীর প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশেষ করে চর এলাকায় অবস্থিত দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারী এবং স্থানীয় গরু-মহিষ পালনকারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
শুরুতে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ সোনাগাজী পৌরসভার চর গনেশ গ্রামের একটি ছোট দোতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। কথা ছিল- পরবর্তীতে কারখানার পরিধি আরো বাড়ানো হবে এবং নিজস্ব জমিতে দুগ্ধ শীতলীকরন কারখানা স্থাপন করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ৮ বছর পরও অবস্থার কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিজস্ব জমিতে কারখানা স্থাপনের জন্য চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়াবাজার এলাকায় ২০ শতক জমিও নেওয়া হলেও সেই জমিতে খামার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি ।
প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার লিটার দুধ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হলেও গত সাড়ে আট বছরে গড়ে প্রতিদিন ৭ শত লিটারের বেশী দুধ সংরক্ষণ করা যায়নি। তবে এ দুধ সংরক্ষন নিয়ে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ ও খামারীদের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
শুরুতে মিল্কভিটা কারখানায় দুধ সরবরাহ করার জন্য খামারী ও কৃষকদের নিয়ে ২৪টি সমবায় সমিতি গড়ে ওঠে, যাদের মাধ্যমে মিল্কভিটা দুধ সংগ্রহ করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে নানা সংকটে ১১টি সমবায় সমিতিতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুগ্ধ উৎপাদনকারী এক সমবায় সমিতির সভাপতি অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজারে প্রতি লিটার দুধের দাম ৭০-৮০ টাকা হলেও মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দুধে ননীর পরিমান কম অজুহাতে প্রকার ভেদে প্রতি লিটার দুধের দাম ৩২ থেকে ৫৮ টাকার বেশী দেওয়া দেওয়া হয় না। তাদেরকে নায্য মূল্যে গরু খাদ্য সরবরাহ করার কথা থাকলেও সেটি করা হচ্ছে না। খামারীদেরকে স্বল্প সুদে পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋন প্রদান, গাভীর সুপেয় পানীর জলের জন্য গভীর নলকুপ স্থাপন, পর্যাপ্ত ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয় গুলোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উত্তর চরচান্দিয়া দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন জানান, সোনাগাজীতে মিল্কভিটার কারখানা স্থাপিত হওয়ার পর স্থানীয় দুগ্ধ খামারী ও কৃষকরা বেশ খুশী হয়েছিল। কিন্তু সে খুশী বেশী দিন স্থায়ী হয়নি। ইতিমধ্যে দুগ্ধ খামারী ও কৃষকদের মধ্যে নানা ধরনের হতাশা দেখা দিয়েছে। কারখানায় দুধ নিয়ে গেলে স্বল্প পরিসরের অফিসে দাঁড়ানোর জন্যও জায়গা পাওয়া যায়না। খামারীদেরকে গাভী প্রতিপালনে ঘাস চাষের জন্য কোন জমি দেওয়া হয়নি। কারখানার প্রধান ভ্যাটেনারী সার্জনের পদটি দীর্ঘদিন শুন্য রয়েছে। ফলে পশুর জটিল কোন রোগ দেখা দিলে খামারীদের বেকায়দায় পড়তে হয়। অপরদিকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এবং ওই প্রাণি সম্পদ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় খামারীদেরকে অসুস্থ গরু নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সোনাগাজী মিল্কভিটা কারখানার ব্যবস্থাপক মো. মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ জানান, কারখানাটি স্থানাস্থরের জন্য ইতিমধ্যে ২০ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছে। পশু চিকিৎসকের (ভ্যাটেরেনারী সার্জন) পদটি পূরনের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে ,
তাছাড়া খামারীদেরকে ইতোমধ্যে কিছু ঋণ দেয়া হয়েছে- তবে পর্যায়ক্রমে আরো ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।