সৌদিতে দূর হলো নারীদের গাড়ি চালানোর বাধা

আপডেট : September, 27, 2017, 1:26 am

ডেস্ক রিপোর্ট->>>

সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়ে রাজকীয় ফরমান জারি করলেন বাদশাহ সালমান।

সৌদি আরব ছিলো পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে এতদিন নিষিদ্ধ ছিল নারীদের গাড়ি চালানো। বাদশাহর নতুন এই ফরমান সৌদি নারীদের প্রথমবারের মতো মুক্ত করলো এই নিষেধাজ্ঞা থেকে। তবে রাজকীয় এই ফরমান জারি হয়েছে কেবল কাগজে কলমে; এটি কার্যকর হকে ২০১৮’র জুনে- এমনটাই বলছে সৌদি গণমাধ্যম।

নারীদের গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এতদিন দেশটিতে কেবল পুরুষেরাই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতেন। জনসমক্ষে গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়লে গ্রেফতারের পাশাপাশি জরিমানা করা হতো নারীদের।

এই আইনের জন্য বহু সৌদি পরিবার গাড়ি চালাতে পুরুষ চালক নিয়োগ করে থাকে।

নারীদের গাড়ি চালাতে না দেওয়ার আইনটি তুলে ফেলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অধিকারকর্মীরা আন্দোলন করে আসছেন। অনেকে এর জন্য জেলেও গেছেন।

এদের মধ্যে একজন সৌদি অধিকারকর্মী লৌজেইন আল-হাতলৌল। চলতি বছরেই প্রকাশ্যে গাড়ি চালানোর দায়ে তাকে ৭৩ দিন কারাবন্দী থাকতে হয়েছিলো। নতুন এই ঘোষণা আসার সংবাদে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি টুইট করেছেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ’।

আরেক নারী অধিকারকর্মী সাহার নাসাফ বিবিসিকে বলেছেন, ‘খুব খুব খুশি। আমি নিজের স্বপ্নের গাড়িটি এবার কিনবো। কালো এবং হলুদ রঙের একটি কনভার্টেবল মাসট্যাং।”

উইমেন টু ড্রাইভ শীর্ষক আন্দোলনের সংগঠক মানাল আল-শরীফ টুইটারে লিখেছেন, ‘এরপর সৌদি আরব আর আগের মতো থাকবে না।’

সৌদি আরবের মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালেদ বিন সালমান এই ঘটনাকে উল্লেখ করেছেন ‘এক ঐতিহাসিক দিন’ এবং ‘সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে।

বিবিসিকে তিনি নিশ্চিত করেছেন, নতুন এই ফরমান জারির কারণে এখন থেকে গাড়িচালনা শিখতে নারীদের তাদের পুরুষ অভিভাবকের অনুমতিরও প্রযোজন হবে না এবং তারা দেশের যেকোনো স্থানে নিজের ইচ্ছেমতো গাড়ি চালিয়ে যেতে পারবেন।

তবে সবাই যে এই পরিবর্তন সুনজরে দেখছেন তা নয়। এখনও অনেকে আছেন, যারা মনে করছেন এর মাধ্যমে ইসলামিক আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে।

সৌদি আরব পরিচালিত হয় সুন্নি ইসলামের শরিয়া আইন মোতাবেক। যে আইন অনুসারে দেশটিতে সঠিক পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া নারীদের ভ্রমণ, কর্মক্ষেত্রে গমন এমনকি হাসপাতালে যাওয়ার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই আইনের কারণেই এতদিন ধরে দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোয় বাধা ছিল।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ হওয়ার পরও সৌদি নারীদের নির্ভর করতে হতো নিয়োগকৃত গাড়িচালকদের উপর; যাদের বেশিরভাগকেই আনা হতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে। এসব গাড়িচালকের বেতন ছাড়াও সৌদিতে তাদের থাকা, খাওয়া ও সকল ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হতো ওই নারীর পরিবারকেই।

সৌদি আরবের নতুন যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের আওতায় দেশটিতে নতুনভাবে নারীদের সামাজিক অবস্থানের আধুনিকায়ন ঘটানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রথমবারের মতো দেশটির জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সৌদি নারীদের অনুমতি দেওয়া হয় কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে দিনটি উপভোগ করার। সৌদি আরবের অভ্যন্তরে এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হলেও আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির এই পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি