ফেনী -৩ আসনে নৌকার নতুন চমক এসডিএম দিদার

আপডেট : October, 23, 2018, 7:53 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন- >>>

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী- ৩ আসনে নৌকা প্রতীকের নতুন চমক হিসেবে শোনা যাচ্ছে সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা বর্তমান মীরপুর থানা আ’লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এস.ডি.এম দিদারের নাম।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রার্থী ও ভোটারদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভোটারেরা যেমনি উচ্ছ্বসিত, সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও তেমনি উৎফুল্ল। দলীয় মনোনয়ন ও সাধারন মানুষের মন জয় করতে ফুরফুরে মেজাজে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলীয়ভাবে চেষ্টা তদ্বীর চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রকে আবার কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় এবং তৃণমূল নেতাদেরকে। এছাড়া কেউ কেউ শুধুমাত্র তৃণমূল নেতাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠের রাজনীতি সরব রেখেছেন। কেন্দ্রীয় লবিং, তদ্বীরের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে গুরুত্ব দিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোটও চাচ্ছেন কেউ কেউ। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে সাধারন মানুষের মন জয়ের চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয়তা আর নির্জিবতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন আর শান্তির বার্তা নিয়ে আ’লীগের ডজন খানেক সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নৌকার পালে হাওয়া লাগাতে ইতোমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে আলহাজ্ব এস.ডি.এম দিদারের নাম। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি। ছোট বেলা থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ছাত্রজীবনেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়ার পর যুবলীগের নেতৃত্বে আসেন তিনি। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ১৪টি মামলার আসামি হয়ে হুলিয়া নিয়ে ঢাকা শহরে উঠেন তিনি। ঢাকায় এসে রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
ধলিয়া হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি, ফেনী সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং নিজামপুর কলেজ থেকে বিকম পাস করেন তিনি। সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৬ সালে বিএনপির অপশাসন বিরোধী আন্দোলন, ২০০১সালের পর চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং ২০০৭ সালে মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের নেতৃত্বাধীন এক/এগার সরকারের আমলে শেখ হাসিনা সহ আ’লীগের সকল রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন দিদার। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। নিজের ব্যবসায়ীক জীবনে অর্জিত সকল অর্থ ব্যয় করে চলেছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে। নিজের নাড়ির টানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে ফেনী-৩ ( সোনাগাজী ও দাগনভুঞা) আসনে সর্বস্তরের জনগণের মাঝে প্রকাশ্যে-গোপনে দান অনুদান দায়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দানের হাত প্রসারিত রেখেছেন তিনি। অনেকটা প্রচার বিমূখ এই নেতা নিজেকে দল ও সাধারন মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিলেও দল এবং সাধারন মানুষের কাছে তার তেমন কিছু চাওয়ার ছিলনা। এখন সময় এসেছে দলীয় মনোনয়ন ও সাধারন মানুষের সমর্থন আদায় করার। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দাবি করে ফেনী-৩ আসনে মনোনয়ন এনে নৌকার পালে হাওয়া লাগাতে চান তিনি। একান্ত সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশ রত্ম, মাননীয় প্রথানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রিতির ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার সরকার আরো একবার দরকার। শেখ হাসিনা জাতিকে একটি উন্নত দেশ উপহার দিয়েছেন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি রাজধানী ঢাকা শহরে আ’লীগের নেতৃত্বে থাকলেও নাড়ির টানে ফেনী-৩ আসনের সর্বস্তরের জনতার সেবা করতে চান। তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে না পারলে এলাকাবাসীর সেবা তথা এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি ফেনী-৩ আসনে নৌকার প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সর্বস্তরের জনগণের সেবা করতে চান। ইতোমধ্যে তিনি বাংলাদেশ আ’লীগের মনোনয়ন বোর্ডে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান তুলে ধরে নিজের জীবন বৃত্তান্ত (বায়ো ডাটা) জমা দিয়েছেন। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে জোর লবিং অব্যাহত রেখেছেন। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথেও সেতু বন্ধন গড়ে তুলেছেন তিনি। নেতাকর্মীদের সাথে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে চলেছেন দিদার। ভোটারদের আশির্বাদ নিয়ে রাজপথে সরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামাতের সকল অপকর্ম মোকাবেলা করার শক্তি, সাহস ও সামর্থ রয়েছে এমনটা দাবি করে দিদার বলেন, রাজপথ দখল রাখার সকল কৌশল তার জানা আছে। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা আর শ্রদ্ধা রেখেই রাজনীতি করে চলেছেন। দলীয় চেইন অব কমান্ডের বাইরে তিনি কোন সাংগঠনিক কর্যক্রম পরিচালনা করতে রাজি নয়। ফেনী-২ আসনের সাংসদ,
আ’লীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী ও জেলা আ’লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকম’র নেতৃত্বে জেলা আ’লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেমনি ঐক্যবদ্ধ ও সুশঙ্খল রয়েছে, তেমনি করে তিনিও তাদের নেতৃত্বে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ফেনী-৩ আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি। দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যাপক তোড়জোড় চালানোর পাশাপাশি নাড়ির টানে গ্রামে আসলে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দলীয় সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন তিনি। ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার অধীনে মিরপুর থানা আ’লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে সততা ও দক্ষতার সাথে সাংগঠনিক দায়ীত্ব পালন করে চলেছেন তিনি। নৌকার টিকে পেলে ফেনীবাসীকে চমক দেখাতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক দর্শন থেকে নৌকার পালে হাওয়া লাগাতে পারবেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাইকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক নৌকায় ভোট দেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।