ফেনী-পরশুরাম সড়কে বাঁক সোজাকরনের উদ্যোগ

আপডেট : April, 29, 2019, 7:00 pm

বিশেষ প্রতিনিধি-
ফেনী-পরশুরাম সড়কে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। ওই সড়কের বাঁক সোজাকরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার সকালে ফুলগাজীর আনন্দপুরে দূর্ঘটনায় আহত যাত্রী ছালেহ আহম্মদ ছালু (৩১) গুরুতর আহত হন। একইদিন বিকাল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি পরশুরাম পৌরসভার বাউরপাথর গ্রামের মৃত জালাল আহম্মদের ছেলে। স্বজনরা জানান, দরিদ্র পরিবারের ছালে আহম্মদ ১৫ দিন আগে একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ছাগলনাইয়া আটোরিক্সা শো-রুম থেকে মাসিক কিস্তিতে সিএনজি অটোরিক্সা নেন। একই দূর্ঘটনায় আনন্দপুর বাজার সমাজের বাসিন্দা খোরশেদ খান মারা যান।

সূত্র আরো জানায়, গত ক’দিনে দূর্ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। সড়কের বাঁকগুলো মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এদিকে সোমবার দুপুরে ফেনী সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা সহ আনন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। তাৎক্ষনিক সড়কের বাঁকে গাছ-গাছালি পরিস্কার করা হয়। এসময় বাঁকটি সোজা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানানো হয়।

সূত্র আরো জানায়, ২৬ কিলোমিটার সড়কে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি ছোট বড় বাঁক। প্রতিদিন কোন না কোন বাঁকে দূর্ঘটনা ঘটছে। স্পট সমূহ ফেনী থেকে রানীরহাট, মজিদ মিয়ার ব্রীজ, কাজিরবাগ, ফরেষ্ট গেইট, কহুয়া উত্তর পাশ্বে হাসানপুর ব্রীজ, হাসানপুর তাহেরের দোকান, আনন্দপুর বাজারের দক্ষিন পাশে ও উত্তর পাশে, আনন্দপুর চারা বটগাছ প্রাইমারী স্কুল সড়কের মাথায়, ফুলগাজী বাাজর বেইলি ব্রীজ, চিথলিয়া নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিন পাশে, আবদুল আজিজ বিএ সড়কের মাথায়, পরশুরাম বাজার ব্রীজ, পরশুরাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন সড়ক ও বাউরখুমায় ৫ টি বাঁক রয়েছে। বিলোনীয়ায় স্থল বন্দর থাকা স্বত্ত্বেও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নীতকরন কিংবা বাঁক সোজাকরনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নেয়নি। ছোট বড় দূর্ঘটনায় প্রতিদিনই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। কেউ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে, আর কেউবা পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

আনন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার সাংবাদিকদের  জানান, গত প্রায় ৫ বছরে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছে। সড়কের বাঁকগুলো সোজা করা হলে দূর্ঘটনা কমে আসবে।