সোনাগাজীতে চাঁদাবাজি মামলার তদন্তের নোটিস পেয়ে রাতের আঁধারে মৎস্য খামারে হামলা চালিয়ে পাড় গুড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা

আপডেট : May, 21, 2019, 11:01 am

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি->>>
ফেনীর সোনাগাজীতে চাঁদাবাজির মামলার তদন্তের নোটিস পেয়ে রাতের আঁধারে মৎস্য খামারে হামলা, লুট চালিয়ে খামারের পাড় গুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের রব প্রাইমারী সংলগ্ন এলাকায় নুরজাহান মৎস্যখামারে এঘটনা ঘটে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, চরচান্দিয়া গ্রামের মৃত এনামুল হকের স্ত্রী নুর জাহান বেগম স্বামীর মালিকীয় ৫৪ শতক জমিতে মৎস্য খামার গড়ে তুলে দীর্ঘ দিন যাবৎ মাছ চাষ করে আসছে। মৎস্য কামারটি দখলে নিতে তার বাসুরপপুত্র নুর হোসেন গং দফায় দফায় মৎস্য খামারে হামলা লুটপাট চালিয়ে আসছে। এনিয়ে স্থানীয় ইউননিয়ন পরিষদে নুরজাহান বাদী হয়ে নুর হোসেন গংদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন দীর্ঘ শুনানী শেষে নুরজাহানের পক্ণে রায় প্রদান করেন। তাতেও নুর হোসেন গং ক্ষান্ত না হলে নুর জাহান সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তাতেও দুই পক্ষের সালিসদারদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে নুর জাহানের পক্ষে সালিসনামা প্রদান করো। তাতেও ক্ষান্ত না হলে নূর জাহান ফেনীর সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের রায়েও নুরজাহান জয়লাভ করেন। নুরজাহানের আবুদাবী প্রবাসী পুত্র নুর আলম দেশে ফিরে আসলে নুর হোসেন স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেন। সন্ত্রাসীরা প্রবাসী নুর আলমের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে অন্যথায় তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে অথবা খুন করে মাছ চাষের স্বাদ মিটিয়ে দেবে।
এই ঘটনায় নিরুপায় হয়ে নুরজাহান বাদী হয়ে গত ৫মে ফেনীর সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজের নিকট প্রেরণ করেন। ইউএনও সোহেল পারভেজ ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্তের জন্য উভয় পক্ষকে নোটিস প্রদান করেন। নোটিস পেয়ে নুর হোসেন গং ৬০/৭০জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ভাড়া করে নুরজাহানের মৎস্য খামারে হামলা ও লুটপাট চালায়। এসময় নুরজাহানের মতস্য খামারেের পাড় গুড়িয়ে দিয়ে তাদের খামারের সাথে একাকার করে ফেলে। রাত দেড়টার সময় এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে বলে গ্রামের লোকজন বের হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশদল ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন জানান এই ব্যপারে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ জানান, সরেজমিনে তদন্ত করেছি। লিখিত প্রতিবেদন খুব শীঘ্রই আদালতে প্রেরণ করা হবে।