বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রচলিত শিক্ষার বাইরেও শিক্ষিত হয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব

আপডেট : June, 23, 2019, 11:45 am

 

জসিম উদ্দিন ফরায়েজী:

 

শিক্ষাকে এদেশের আপামর জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ১৯৯২ সালে আইন পাসের মাধ্যমে উন্মেষ ঘটে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের। দেশের যেকোন আর্থ-সামাজিক অবস্থার এবং যে কোন সময়ের জনগণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে প্রচলিত শিক্ষার বাইরেও শিক্ষিত হয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারেন। সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত শিক্ষার সকল সুযোগ করে দিতে পারছে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি প্রোগ্রামে আজ অবধি প্রায় দু’ থেকে তিন লক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে। অনেকে ইতোমধ্যে কৃতকার্য হয়ে নিজ কর্মসংস্থান করে নিয়েছেন। অনেকেরই পেশাগত উন্নতি হয়েছে এবং আরও অনেকেই বর্তমানে এ পদ্ধতিতে লেখাপড়া শিখছেন ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের আশায়। বর্তমানে এদেশে অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন লোকের হার প্রায় ৫৭ শতাংশ। তবে এ কথা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে মৌলিক দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষিতের হাত বর্তমানে ৪৪.৩%। যেখানে পুরুষ শিক্ষার হার ৫০.৪% সেখানে নারী শিক্ষার হার ২৮.৫%। গ্রামে এই অবস্থা আরও নিম্নমুখী। গ্রামে শিক্ষার হার ৩৬.৬% এবং শহরে ৬৩.০%। শিক্ষার এ সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজের অংশগ্রহণ শেষ বয়সে এসেও পড়ছে, কতটা আশাব্যঞ্জক তা প্রতিফলিত হয়েছে অতি সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে। জরিপে কিছু নারী মুখের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা একই সাথে সংগ্রামী, পেশাজীবী এবং সামাজিক সুবিধা বঞ্চিত। এমন কিছু সংগ্রামী নারীই এই প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য। আমরা রাস্তার পাশে ইট ভাঙছেন এমন বহু নারী দেখি। দেখি গার্মেন্টস শ্রমিক, শহরে বাসাবাড়িতে কর্মরত নারী ফুটপাত হোটেল চালানো, পানওয়ালা, হকার নারীও দেখি। এদের কারও কারও ব্যক্তিগত জীবন হয়ত বা সুন্দর অথবা কারও ব্যক্তিগত জীবন নেই। এছাড়াও সমাজে এমন কিছু নারীও আছেন যাদের অস্তিত্ব রক্ষার পেছনে বাবা, স্বামী, ভাই বা পুত্র এদের কারও সাহায্য নেই। এরা একাই লড়ছেন, নিজেদের ভাঙছেন, গড়ছেন এবং সমাজে টিকেও থাকছেন। আছেন ডাক্তার,শিক্ষক,সাব রেজিস্টার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকুরী জীবি,প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে আজ যারা সফল তাদের কয়েকজনের নাম বলা যায়, মোঃ খুরশিদ আলম সিনিয়র শিক্ষক,গুতমাখান বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়, পরশুরাম। মোঃ নাসির উদ্দিন (ই,ঝ,ঈ) ই.ঊউ সিনিয়র শিক্ষক পরশুরাম মডেল হাই স্কুল,পরশুরাম, ফেনী।এপি রানী সহকারী শিক্ষিকা এসএসসি,এইচএসসি,বিএ,বিএসএস,বিইএড ১ম স্থান। জনাব নিবেদ্রনাথ রায় সাব-রেজিষ্টার চুয়াডাঙ্গা।ড.আশুতোষ দেবনাথ সহকারী অধ্যাপক, নোয়াখালী এম এ রহমান হোমিও মেডিকেল কলেজ। মোঃ মিজানুর রহমান প্রধান সহকারী ও কম্পিউটার টেকনোলজি, ছাগলনাইয়া পৌরসভা, ফেনী। বিএসএস,এমএসএস বাউবি। মোঃ রিয়াজ আহমেদ জঅই কর্মরত, রাজশাহী রেঞ্জ। এসএসসি,এইচএসসি বাউবি(অধ্যয়নরত) জনাব মোঃ আবু নাসের উচ্চমান সহকারী বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফেনী। মোঃ মাহববুুল হক (এজিএম ফেনী শাখা মেঘনা জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোঃ লিঃ ও সিনিয়র রিপোর্টার দাখিল পরওয়াম এর ইডিটর সম্পাদক, প্রযুক্তি চিন্তা সম্পাদক স্বাস্থ্য চিন্তা।মোঃ নাসির উদ্দিন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট সদর হাসপাতাল, ফেনী।
ফেনী বাউবি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র কো-অর্ডিনেটিং অফিসার মোহাম্মদ মাহবুব সরোয়ার বলেন বাংলাদেশের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বাহিরেও রয়েছে এ শিক্ষাকে গণমানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বিভিন্ন সমস্যা এবং প্রতিকূলতার কারণে বর্তমানে আমরা গণমানুষকে শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে হয়ত ততটা সফল হতে পারছি না। তবে দেশের দূরশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেটি সমাজের যে কোন অবস্থানের, বয়সের পেশাজীবী, শ্রমজীবী অথবা বেকার মানুষকে শিক্ষিত করে দক্ষ জনগোষ্ঠী সৃষ্টির প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উদ্দেশ্য যেহেতু বাস্তব ও মহৎ সেহেতু কাংখিত লক্ষ্যে অচিরেই আমরা পৌঁছে যাব। প্রয়োজন কেবল সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার। আমি এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে দেশের কোন শ্রেণীর মানুষ উন্মুক্ত শিক্ষায় এগিয়ে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে জরিপ করতে গিয়েই কিছু মানুষের সন্ধান পাই যারা সমাজে বঞ্চিত শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি অংশ। যারা নীরবে নিভৃতে নিজেকে গড়ে নিয়ে সমাজের উন্নয়নমুখী কর্মকার্তা অংশগ্রহণ করে নিজের ও দেশের উন্নয়নকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার সততাই হয়।