ষড়যন্ত্রের শিকার একজন ইমাম উদ্দিন ভূঞা

আপডেট : July, 4, 2019, 3:59 pm

জাবেদ-মামুন-

একজন মিডিয়া কর্মী হিসেবে তিনবারের পৌর কাউন্সিলর ইমাম উদ্দিন ভূঞার কাছে লজ্জিত। তার কারণ সোনাগাজী উপকূলে তার বেড়ে উঠা। সজ্জন ব্যক্তি। মানুষ ডাকলে সালিস বিচারেও ছুটে যান। টাকার বিনিময়ে কখনো সালিস করতে শুনিনি। যতদূর জানি নিজ বাড়ির সামনে তার পিতার নামে মূল্যবান জমিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করেছেন।
চরম শত্রুর সাথেও অনেকটা আপোষ করে চলেন। বিরোধে জড়াননা। কারো চরম ক্ষতি হোক এমনটাও চাননা। যাক এরপরও মানুষ হিসেবে ভুলত্রুটি থাকাটা অস্বাভাবিক কিছুনা। তাই বলে এমন একজন লোকের নৈতিক চরিত্রের এমন বিতর্কিত অধঃপতন হওয়ার কথা নয়।
জীবন সংগ্রামে চলার পথে মানুষের সাথে বিরোধ, সমস্যা ও সংকট থাকতে পারে। তাই বলে শত্রুকে ফাঁসানোর জন্য তথাকথিত যৌন লালসা, হয়রানি, ধর্ষণ, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে হবে!
নতুবা ১০/২০টাকা খরচ করে ফেসবুকে একজন মানুষের চরিত্র হনন করে তাকে সমাজের কীটে পরিণত করতে হবে! এমনটাও চাওয়ার দুস্কৃতিকারী লোকের কিন্তু বর্তমান সমাজে অভাব নেই।
ঘটে চলছে খেলা, সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের কোন প্রয়োজন নেই। সোনাগাজীতে সাংবাদিক নাম শুনলেও এখন গালি দেয়ার লোকের অভাব নেই। মুটামুটি নাভির নীচ পর্যন্ত চলে গেছে। যে কেউ যার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করাটা সস্তা ব্যাপার। কিন্তু অভিযোগকারীর আসল চরিত্র, লক্ষ্য কি, কোন কারণে নাটক বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার কোন দরকার নেই?
রেইট ২০/২৫০পর্যন্ত। একটিবা্র কেউ কি ভেবে দেখেছে তার পারিবারিক ভাইবোনদের কুকর্ম বা নিজেদের প্রতিচ্ছবি। একজন ফেসবুকে দেবে হেঁটে লোক ধরে সেটি শেয়ার করাবে। নিজেকে বীর বাহাদুর মনে করে আবার হুঙ্কার ছাড়ে। আমি মস্ত বড় সাংবাদিক! আমি কি আর কারোরে ডরাই?
আমি নবাব সিরাজ উদদৌলা বা বঙ্গবন্ধুর বংশধর। শেখ হাসিনার নীচে আমার ক্ষমতা। এই দাম্ভিকতার সাথে বলে বেড়াবে সমাজের যতবড় প্রভাবশালী হোক তার বিরুদ্ধে আমি লেখে যাচ্ছি! সেটি ষড়যন্ত্র হোক আর বাস্তবে হোক। সেটা ভাবার সময় নেই, গায়ের জোর সিকি পরিমাণ, হয়তো দুপুর বেলায় উপাস!
দুর্ভাগ্য অন্যকে যত ছোট করতে পারছি নিজেকে ততই বড় মনে হচ্ছে। বাস্তবে একটি গুটি বেগুন! একটি নামাজি ও ধার্মিক ব্যবসায়ীর সাথে তার ভাড়াটিয়া এক নারীর সাথে ভাড়া নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে ইমাম ভূঞাকে ব্যবসায়ী বিষয়টি মীমাংসার জন্য নিয়েছেন। তিনি ভাড়াটিয়াকে ভদ্রলোকের বাসা বলে ভাড়াটিয়াকে বাসা ছেড়ে দিতে হয়তোবা বলে এসেছেন। এতে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনতে হবে! তাও একজন কিশোরী মেয়েকে সামনে দিয়ে। ভাড়াটিয়ার কথা বাদ দিলাম।
দুঃখিত সোনাগাজীবাসী! মানুষের চরিত্র কত উপরে বা নীচে বলা যাবেনা। পত্রিকা বা ফেসবুকে জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ হলেও মুখরোচক হলে সেটি পাঠ করা বা প্রচারের লোকের অভাব হবেনা। সোনাগাজীতে এখন মানুষের পরিবর্তে কলা গাছের ফাঁসি শুরু হয়ে গেছে। জানিনা এই কলাগাছের ফাঁসি দিতে দিতে ফরমালিন যুক্ত কলা আরো কতোদিন সোনাগাজীবাসীকে গিলতে হবে?
ইমাম উদ্দিন ভূঞা আমার আত্মীয় নয়, সুহৃদ হতে পারে। ছোটভাই হিসেবে স্নেহ করে। তাকেও সম্মান করি। ঘটে যাওয়া ঘটনায় বিচলিত হলে ওদের বা আমাদের দুঃখ নাই। মিথ্যা হলে তার খেসারত কত যে ভয়ঙ্কর তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ টের পাওয়ার কথা নয়। কথায় আছে হাঁচায় বাঁচায়, মিথ্যা ফাঁসায়। মিথ্যা বলা মহাপাপ। মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে। আমাকেও প্রস্তুত থাকতে হবে যে কোন সময় তথাকথিত যৌন হয়রানির কলঙ্ক লুপে নিতে! ভাল থাকুন ইমাম উদ্দিন ভূঞা।