সোনাগাজীর ৮নং স্লুইসগেট নূরানী বাজারের ব্যবসায়ী লম্পট মোজাম্মেলের গোপন অভিসার! দুই সন্তানের জননীর সাথে অনৈতিক কাজে ধরা খেয়ে গণপিটুনীর শিকার

আপডেট : July, 27, 2019, 7:25 pm

স্টাফ রিপোর্টারঃ ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের ৮নং স্লুইসগেট নূরানী বাজারের ব্যবসায়ী লম্পট মোজাম্মেল হোসেন গভীর রাতে দুই সন্তানের জননীর সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ধরা খেয়ে গ্রামবাসীর হাতর গণপিটুনীর শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ চরদরবেশ গ্রামের একরামুল হকের নতুন বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। যদিও সালিশের কথা বলে রাত ১টার দিকে জনতার রোশানল থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন মোজাম্মেলের ভাড়াটে মাস্তান রিধন। জনতার রোশানল থেকে ছাড়া পেয়ে উল্টো আটককারীদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, নূরনী বাজারের মুদি দোকানী মোজাম্মেল হোসেন বিগত প্রায় এক বছর যাবৎ এক বিধবা নারী, দুই সন্তানের জননীর সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে গোপন অভিসারে লিপ্ত হয়। বাড়ির লোকজন বাধা দিলেও তাদের গোপন অভিসার বন্ধ করা যায়নি। শুক্রবার রাতে বাড়িতে পাহারা বসায় গৃহবধুর দেবর সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. সুমন। রাত ১২টার দিকে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে মোজাম্মেল। গোপন অভিসারে লিপ্ত হলে দরজার বাইরে ছিটকানী লাগিয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় গ্রামবাসী ছুটে এসে মোজাম্মেল কে আটক করে গণপিটুনী শুরু করে। পরে মোজাম্মেলের ভাড়াটে মান্তান রিধন সকালে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে মোজাম্মেল হোসেনকে জনতার রোশানল থেকে ছাড়িয়ে নেন।
সালিশী বৈঠকের আয়োজন না করে ওই নারীর দেবর সুমন ও গ্রামবাসীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে বলে সুমন ও গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেছেন।
এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামশেদ আলম জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। সকালে ওই নারী তার কাছে এসে দাবি করেন তার দেবর সুমন তাকে হেয় করতে মোজাম্মেলকে আটক করেছে। মোজাম্মেল তার অসুস্থ সন্তানের জন্য ঔষধ নিয়ে তার ঘরে এসেছে। অবশ্যই কোন চিকিৎসক বা কোন ফার্মেসী থেকে ঔষধ ক্রয় করেছে এমন প্রশ্নের উত্তর মিলেনি।
রিধন জানান, মোজাম্মেলের অনুরোধে তিনি সালিশের আশ্বাস দিয়ে মোজাম্মেল কে জনতার হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন। স্থানীয় মেম্বার ও সমাজের লোকজন ব্যস্ত থাকায় সালিশ হয়নি। পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সমাজ পরিচলনা কমিটির সাধারন সম্পাদক এবি ছিদ্দিক জানান, ঘটনাটি তিনি রাত পৌনে একটায় শুনেছেন। স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বে আবার খবর পান রিধন নামে এক ব্যক্তি তাকে সালিশের কথা বলে ছাড়িয়ে নিয়েছেন। এখন শুনছি উল্টো আটককারীদের মামলার হুমকি দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সমাজের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে। সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাবে।
উল্লেখ্য; মোজাম্মেল হোসেন ইতোপূর্বে মো. মানিক নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে বস্তাবন্দি করে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে গ্রাম্য সালিশে তার চল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বর্তমানেও সে হুমকি দিচ্ছে যা হবে টাকার উপর দিয়ে যাবে। তার বিচার করার কারো ক্ষমতা নাই। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আটককারীদের দেখিয়ে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন মোজাম্মেল।

ঘটনার পর থেকে মোজাম্মেল গা ঢাকা দিয়েছে। তার ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।