মতিগঞ্জ দক্ষিণ স্বরাজপুর কোরশক্বারী জামে মসজিদের সাবেক কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষেরর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: উত্তেজনা

আপডেট : August, 10, 2019, 1:14 pm

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ফেনীর সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ স্বরাজপুর কোরশক্বারী জামে মসজিদের সাবেক কমিটির সভাপতি নূরুল হুদা, সম্পাদক মাস্টার রফিক উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নবনির্বাচিত কমিটি সাবেক কমিটির কাছে আর্থিক হিসাব চাওয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়ীত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে টালবাহনা করছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। এনিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেরও আশঙ্কা করেছে এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, বিষয়টি ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী পর্যন্ত গড়িয়েছে। তিনি ধর্মপ্রাণ মুসল্লী ও এলাকাবাসীকে শান্তিপূর্ণ সুরাহার আশ্বাসও দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, মসজিদের সামগ্রিক উন্নয়নের সার্থে ২০১২ সালে এলাকাবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের সিদ্ধান্তক্রমে নূরুল হুদাকে সভাপতি, মাস্টার রফিক উদ্দিন কে সাধারন সম্পাদক ও সাহাব উদ্দিনকে কোষাধ্যক্ষ করে ১৫সদস্য বিশিষ্ট মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

এলাকার ধনী-গরীব সকল ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে মসজিদের দ্বিতল ভবন নির্মাণ সহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য দেড় কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। তারা দায়ীত্ব পেয়ে প্রথমে দুই বছর সকলের মতামতের ভিত্তিতে মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে উন্নয়ন কাজের বিল ভাউছারে অসঙ্গতি রেখে নিজেদের আখের গোছাতে শুরু করেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মতামতের কোন তোয়াক্কা না করে তারা তিনজন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আদায় ও ব্যয় করে আসছেন। গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের কোন প্রকার হিসাব না দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করে মসজিদের অর্থ তসরুপে মত্ত হয়ে উঠে। এভাবে প্রায় ৭ বছর ধরে মসজিদের আর্থিক হিসাব না দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে।

এক পর্যায়ে গ্রামবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠলে নতুন কমিটি গঠন ও মসজিদ তহবিলের স্বচ্ছ হিসাব প্রদানে রাজি হন তারা। গত ১৪ জুন এক সাধারন সভায় সর্বসম্মতভাবে পুরাতন কমিটি বাতিল করে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের জন্য মাস্টার জয়নাল আবেদিনকে আহবায়ক ও আমিনুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ২৩ জুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন করা হয়। সর্বসম্মতভাবে ভোটার তালিকাও প্রস্তুত করা হয়।

২০ জুন প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র গ্রহন ২১জুন জমা, ২২জুন প্রত্যাহার ও ২৩ জুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন করা হয়। ঘোষিত তফসিল মোতাবেক ২৩ জুন গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে ৭জন ও সাধারন সম্পাদক পদে ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গোপন ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম সভাপতি এবং ডা. নূরুল আবছার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। সূবসম্মতিক্রমে উক্ত কমিটির নির্বাচিতদের স্বাগত জানিয়ে আরেকটি সাধারন সভায় ১৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপরাপর সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মো. আইয়ূব আলী, সহ-সাধারন সম্পাদক হুমায়ূন কবীর ভূঞা, অর্থ সম্পাদক মফিজুর রহমান মানু, দফতর সম্পাদক আবুল খায়ের, আদায়কারী এরশাদ উল্যাহ, সদস্য নূর মোহাম্মদ দুলাল, মুফতী নাছির উদ্দিন, মফিজুর রহমান কালা মিয়া, রফিকুল ইসলাম, নূর ইসলাম, হুমায়ূন কবীর মিয়াজী, মো. আহছান উল্যাহ ও এনামুল হক।
গত ৩জুলাই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মাস্টার জয়নাল আবেদীন ও সদস্য সচিব আমিনুল হক নবনির্বাচিত ১৫সদস্য কমিটির অনুমোদন দেন। নবনির্বাচিত কমিটির লোকজন সাবেক কমিটির কাছে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব সহ প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র চাইলে তারা টালবাহনা শুরু করেন। তারা নতুন কমিটিকে আনুষ্ঠানিক দায়ীত্বও বুঝিয়ে দেয়না এবং মসজিদের আর্থিক তহবিলের হিসাবও প্রদান করেননা। এতে করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক জুম’আর নামাজে মুসল্লিদের সাথে তাদের তুমুল হট্টোগোলের ঘটনাও ঘটেছে। এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের দাবী সাবেক কমিটির লোকজন উপস্থিত থেকে নির্বাচন করে দিয়েছে। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছে। নতুন কমিটি অনুমোদনের সভায়ও তারা সম্মতি প্রদান করে একাত্মতা পোষণ করেছে। কিন্তু আনিষ্ঠানিক দায়ীত্ব হস্তান্তর আর মসজিদের আর্থিক তহবিলের হিসাব চাওয়ায় তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। তারা হিসাব না দিয়ে নানা অপতৎপরতা শুরু করে। মসজিদ আল্লাহর ঘর। ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় উন্নতির শিখরে এই মসজিদ। এই মসজিদের অর্থ আত্মসাত করে কেউ রেহাই পাবেনা। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন ভোটের

মাধ্যমে তাদেরকে নির্বাচিত করা হয়েছে। সাবেক কমিটির লোকজন মসজিদের আয়-ব্যায়ের হিসাব ও নতুন কমিটির কাছে দায়ীত্ব হস্তান্তর না করে নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সুষ্ঠু বিচার দাবীতে সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সুরাহের আশ্বাস দিয়েছেন। সাবেক কমিটির লোকজন যতই ষড়যন্ত্র করুকনা কেন মসজিদের আর্থিক তহবিলের হিসাব গ্রামবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কে দিতে হবে। মসজিদের টাকা আত্মসাত করে কেউ পার পাবেনা।
কমিটির সাবেক সভাপতি নূরুল হুদা জানান, আমরা প্রায় ৭১ লাখ টাকা আদায়

 

করেছি। ৭০লাখ টাকার কাজ করেছি। বাকি টাকা আহ্বায়ক কমিটির কাছে জমা দিয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাস্টার রফিক উদ্দিনের কাছে এ ব্যপারে জানার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফেনে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।