নুসরাত হত্যা মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ,  নুসরাতের দুই বান্ধবীর পূনরায় জেরা রোববার

আপডেট : September, 5, 2019, 6:07 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
ফেনীতে আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।
 আগামী রোববার নুসরাতের দুই বান্ধবীর পূনরায় জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার বাদীপক্ষে আইনজীবী এডভোকেট শাহজাহান সাজু জানান, পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলমের টানা ১১ দিন সাক্ষী ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে বৃহস্পতিবার।
 আসামি পক্ষের আইনজীবীগণ আদালতে নুসরাতের বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি ও নিশাত সুলতানার পূণরায় জেরার জন্য আবেদন, আদালত তা মঞ্জুর করেন। এ মামলার ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালতে ৮৮ জন সাক্ষী দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৯২তম সাক্ষী পিবিআই কর্মকর্তা শাহ আলমের সাক্ষী ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। ১৬জন আসামিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। পিবিআই ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ ঘটনায় পিবিআই ২১ জনকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া আদালত তাদেরকে অব্যাহতি দেন। চার্জশীটভুক্ত ১৬ আসিমির মধ্যে ১২ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
জেরার এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন,
মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার দায়িত্ব পেতে দেরি হওয়ায় কোন ধরনের আলামত পাওয়া যায়নি। ৪ তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় নামা পর্যন্ত সিঁড়িতে নুসরাতের পায়ের ছাপ ও স্থিরচিত্র নেয়া হয়নি। ইটের আস্তর, দেয়ালের ছাপ অথবা দেয়ালে কেরোসিনের গন্ধের ছাপ এবং পাশ্ববর্তী রেলিংয়ে নুসরাতের হাতের ছাপও নেয়া হয়নি । বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে আসামীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ তাকে ১০ দিনের মতো জেরা করেন। বৃহস্পতিবারও তাকে আসামি রুহুল আমিন ও আফছার উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী কামরুল হাসান জেরা করেন। বুধবার আসামি সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, সাইফুর রহমান মো. জোবায়ের ও কামরুন নাহার মনির পক্ষে জেরা করেন এডভোকেট ফারুক আহমেদ। তিনি ইতিমধ্যে ১৪ আসামির পক্ষে জেরা করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান ৫ জন আসামির ছাদ থেকে নিচে পর্যন্ত ফিঙ্গার প্রিন্ট অথবা ফুট প্রিন্ট নিয়েছেন কিনা? তদন্ত কর্মকর্তা না সূচক জবাব দেন। সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ঘটনাস্থলে টেপ দিয়ে মোড়ানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলেও তিনি না সূচক জবাব দেন।
ঘটনাটি নিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি স্কেচ ম্যাপ অংকন করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলেও জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অনুমতি নেয়া হয় নাই।
গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাত কে গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওইদিনই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাত রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে ৭ জন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।