ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডের রায় আজ,ফেনীতে নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট : October, 24, 2019, 9:58 am

ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডের রায় আজ, ফেনীতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে অপরিচিত লোকদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না আদালত প্রাঙ্গণে চলছে তল্লাশি। মাত্র ৭ মাসে রায় হতে যাচ্ছে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যামামলার রায় । রায় ঘোষণা করবেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। বহুল আলোচিত এ মামলায় আসামীদের অপরাধ প্রমাণ হয়েছে দাবী করে ‘সর্বোচ্চ শান্তি’ দাবী করেন রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবিরা। অপর দিকে মামলায় ‘দূর্বল সাক্ষি ও বেশ কিছু আসঙ্গতি’ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে আসামীরা খালস পাবেন বলে দাবী করেন বেশ কয়েকজন আইনজীবি।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও বাদীপক্ষের খন্ডন শেষে ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রায়ের দিন-তারিখ ঘোষণা করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট শাহজাহান সাজু বলেন, এ মামলার আসামীরা ভিকটিম নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে হত্যা করেছে তা আদালতে সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আশা করি এ মামলার আসামীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে। এ মামলাটি বাংলাদেশে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। অপরদিকে আসামীপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, ন্যায় বিচারে আসামীরা খালাস পাবেন কারণ রাষ্ট্রপক্ষ তাদের মামলার কিছুই প্রমাণ করতে পারেন নি।

ফেনী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট হাফেজ আহমেদ জানান, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলার সার্বিক আইনি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার ফেনীর আমলি আদালতের বিচারক জাকির হোসাইন নুসরাত হত্যা মামলাটি নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের পর ৪৭ কর্মদিবস পর্যন্ত এ মামলার সাক্ষগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। ৬১ কর্মদিবসের দিন আলোচিত এ হত্যা মামালার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। গত ২৭ জুন মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এ মামলার ৯২ আসামির মধ্যে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার, বাবা একেএম মূসা ও ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হানসহ ৮৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকী চারজন জনের পক্ষে নথিপত্র আদালতের পেশ করা হলে আদালত তা সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেন। নুসরাত হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ও পিবিআই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ২১জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে। পরে ২৯ মে ১৬ জনকে আসামী করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সংশ্লিষ্টতা প্রমানিত না হওয়ায় নূর হোসেন, আলা উদ্দিন, কেফায়েত উল্যাহ জনি, সাইদুল ও আরিফুল ইসলামের নাম অভিযোগপত্রে রাখেননি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

অভিযোগপত্রে সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিলের নাম উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শান্তি দাবী করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম। চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বেচ্চ শাস্তি দাবী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।