সোনাগাজীতে অবৈধভাবে বালু তোলায় হুমকিতে পাকা সড়ক, গ্রাম, মন্দির ও ব্রিজ

আপডেট : November, 4, 2019, 4:10 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>

ফেনীর সোনাগাজীর ছোট ফেনী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কুঠির হাট ব্রিজ, ফসলি জমি, কালী বাড়ি মন্দির, বিষ্ণুপুর গ্রাম ও কুঠির হাট মহিপাল সড়কের একাংশ ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। কুঠিরহাট কালী বাড়ি সংলগ্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ফেনী-সোনাগাজীর বিকল্প কুঠির হাট-মহিপালের পাকা সড়কটির একাংশে নতুন করে ভাঙনদেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুঠিরহাট কালী বাড়ির উত্তর পাশে ফেনী-সোনাগাজী সড়কের পাশ ঘেষে ছোট ফেনী নদী থেকে বিষ্ণুপুর গ্রামের সত্যমান করের ছেলে পার্থ সারথী কর, মুলকুতের রহমানের ছেলে কাজী কামাল, সোহেল ও চান্দলা গ্রামের ইউপি সদস্য রিয়াদ চৌধুরী সহ একটি বালু দস্যু সিন্ডিকেট অবৈধভাবে তিনটি ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করছেন।

স্থানীয়রা জানায়, এমনিতে প্রায় সময় নদীতে পানির চাপে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে  এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন অনেক কষ্ট করে চলাচল করেছে। গত কয়েকমাস আগে সড়কটি মেরামত করা হয়েছে। বালু তোলার কারণে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর জোয়ার ভাটায় এলাকার বহু ঘর-বাড়ি, পুকুর, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। নতুন করে মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের পর ভাঙন আতংক থেকে রক্ষা পেলেও বালু তোলার কারণে নদী পাড়ের বাসিন্দারা ভাঙন আতংকে রয়েছেন। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে ছোট ফেনী নদীর বুকে জেগে উঠা চর, ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত কুঠির হাট ব্রিজ, কুঠির হাট কালি মন্দির, কুঠির হাট-মহিপাল সড়কের একাংশ এবং বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ঘর-বাড়ি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, পার্থ সারথী কর, ইউপি সদস্য রিয়াদ চোধুরী, সোহেল ও কাজী কামাল নামের কয়েকজন দুর্বৃত্ত দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাব বালু উত্তোলন করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। সড়ক, ব্রিজ, ফসলি জমি, সাধারন মানুষের ঘরবাড়ি ও মন্দির ভাঙনের মুখে রয়েছে। ইউপি সদস্য মো. ফারুক জানান, একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ বালু তুলছেন দেখেছি। তবে জেলা প্রশাসনের কোন অনুমতি আছে কিনা আমার জানা নেই।

চরমজলিশপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমএ হোসেন জানান, নদী থেকে বালু তোলার বিষয়টি শুনেছি। তবে কে বা কারা কীভাবে তুলছে তা জানা নেই। বিষয়টি দেখার দায়ীত্ব জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। উনাদেরকে জানানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়ীত্বও উনাদের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, তিনি এ উপজেলায় নতুন এসেছেন। খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।