বিদায় মানব জীবনের অনিবার্য বাস্তবতা

আপডেট : November, 15, 2019, 8:38 pm

মোঃ জুলফিকার আলম->>>
তিন অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ-বিদায়। মাত্র তিন অক্ষর। কিন্তু শব্দটির আপাদমস্তক বিষাদে ভরা। শব্দটা কানে আসতেই মনটা কেন যেন বিষণ্ণ হয়ে ওঠে। এমন কেন হয়? কারণ এই যে,বিদায় হচ্ছে বিচ্ছেদ। আর প্রত্যেক বিচ্ছেদের মাঝেই নিহিত থাকে নীল কষ্ট। বিদায় জীবনে শুধু একবারই নয়, এক জীবনে মানুষকে সম্মুখীন হতে হয় একাধিক বিদায়ের। সে-ই যে জন্ম লগ্ন থেকে বিদায়ের সূচনা, তারপর জীবন পথের বাঁকে বাঁকে আরো কত বিদায় যে অনিবার্য হয়ে আসে।
মানবশিশু ভুমিষ্ট হয়েই কাঁদতে থাকে। কেন সে কাঁদে? সে তো কাঁদবেই। এতদিন মায়ের নাড়ির সঙ্গে তার যে বন্ধন ছিল সেটি যে আজ ছিন্ন হল। এভাবে জীবনের পরতে পরতে ছিন্ন হয় আরো কত প্রিয় বন্ধন!
ঠিক তেমনি দাগনভূঞাবাসী বিদায় দিচ্ছেন একজন কর্মচঞ্চল ও কাজ পাগল মানুষ দাগনভূঞা ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা’কে। অচিরেই তিনি দাগনভূঞা থেকে বদলী হয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করবেন।
ফেনীর গর্ব ভাষা শহীদ সালামের জন্মভূমি এই উপজেলায় তিনি যোগদান করার পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে চিত্র। যোগদানের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নিরুপায় হয়ে ফিরে এসেছেন এমন অভিযোগ কারী দাগনভূঞা উপজেলায় খুজে পাওয়া যাবে না। মানুষের পারিবারিক, সামাজিক থেকে শুরু করে এমন কোন কাজ নেই যে তিনি করে দেন নাই।
বিশেষ করে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ অনেক সময় প্রশাসনের সেবা থেকে বঞ্চিত হন, কারণ তারা ডিঙাতে পারেন না কর্মকর্তাদের অফিসের দরজা। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ছিলেন দাগনভূঞার ইউএনও সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা। যার অফিসের দ্বার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল সব সময়। তিনি সকল কাজের পাশাপাশি একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও সকলের কাছে পরিচিত।
জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠা করেছেন জবাবদিহিতা। সাফল্য স্বরুপ তিনি অল্প সময়েই পেয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলার আপামর জনসাধারনের ভালবাসা আর আন্তরিকতা।
কাজ পাগল সফল এ মানুষটির জন্য ভালোবাসা ও শুভ কামনা রইলো।