সোনাগাজীতে ভূমি দস্যু জাহিদুল হকের বিরুদ্ধে অসহায় পরিবারের জমি জবর দখলের অভিযোগ

আপডেট : November, 16, 2019, 6:14 pm

সংবাদদাতা->>> সোনাগাজীতে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচান্দিয়া গ্রামের ভূমিদস্যু জাহিদুল হকের বিরুদ্ধে অসহায় পরিবারের ৪৮ শতক জমি জবর দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাহিদুল হক ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে দুটি অসহায় পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনটাই অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, পশ্চিম চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল গণি ৩ ছেলে, ২ মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তিন মেয়ের মধ্যে এক মেয়ের নাম রোকেয়া খাতুন। তিনি ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তার ওয়ারিশগণের মধ্যে ৩ ছেলে ও এক মেয়ে তাদের মালিকীয় হিস্যা অনুসারে প্রাপ্ত জমিগুলো বিক্রি করে দেন। এসব জমিগুলোর কিছু অংশ এলাকার ভূমিদস্যু হিেেসব পরিচিত জাহিদুল হক ক্রয় করেন। রোকেয়া খাতুনের দুই কন্যা হালিমা খাতুন ও ছালেহা খাতুন তাদের ওয়ারিশ হিসেবে প্রাপ্ত হিস্যা অনুযায়ী ২৪ শতক করে ৪৮ শতক জমির মালিক দখলকার হন। তাদের সন্তান ইব্রাহীম খলিল গং এবং মো. ফারুক গং উক্ত ওয়ারিশি সম্পত্তির ভোগদখলকার হন। উক্ত জমিগুলো ভোগ দখলকার থেকে উক্ত ওয়ারিশগণ চরচান্দিয়া মৌজার ৭২১নং দিয়ারা খতিয়ানের ১২৬৮ দাগ এবং বিএস ১৪০১, ১৪২১, ১৪২২, ১৪২৫, ১৪২৬ দাগের মালিক দখলকার হিসেবে হাল সনের খাজনাও পরিশোধ করেছেন। উক্ত জমিতে ভোগ দখলে রয়েছেন তারা। গত কয়েকদিন পূর্বে জাহিদুল হক এক দল ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ইব্রাহীম খলিল ও ফারুক গং এর মালিকীয় দখলীয় জমিতে বেড়া (টেংরা) দিয়ে ঘিরে জবর দখলের চেষ্টা চালায়। ভূমি মালিক ও তাদের স্বজনদের হাতে ধাওয়া খেয়ে জাহিদুল হক এবং তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। হালিমা খাতুনের ছেলে ইব্রাহীম খলিল জানান, পশ্চিম চরচান্দিয়া গ্রামের আবুদল হকের ছেলে জাহিদুল হক জাহিদ একজন চিহ্নিত ভূমি দস্যু। আমার মায়ের ওয়ারিশ হিসেবে আমরা উক্ত জমির ভোগ দখলকার রয়েছি। উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন আমাদের থেকে জমিটি ভাড়া নিয়ে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছিলেন। জাহিদ আমাদের কাছ থেকে জমিগুলো ক্রয় করতে চেয়েছিল। তার কাছে বিক্রি না করায় জাহিদ আমাদের জমিগুলো জবর দখলের হীন উদ্দশ্যে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। জমিগুলো ছোট ফেনী নদীর উপর সাহেবের ঘাট ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে হওয়ায় জাহিদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। ছালেহা খাতুনের ওয়ারিশ মো. ফারুক জানান, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি ধরে রাখতে উক্ত জমিগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে চাই। কিন্তু ভূমিদস্যু জাহিদের লোলুপ দৃষ্টির কারণে তার অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমরা এর প্রতিকার চাই। এ ব্যাপারে জাহিদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। তারা অহেতুক আমার বিরুদ্ধে ভূমি দস্যুতার অভিযোগ করেছেন।