সোনাগাজীতে রহস্যজনক অগ্নিকান্ডে একটি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুড়ে ছাই

আপডেট : December, 5, 2019, 10:16 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
ফেনীর সোনাগাজীতে রাতের আঁধারে এক রহস্যজনক অগ্নিকান্ডে উদয়ন বিদ্যা নিকেতন নামে একটি নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের নবী উল্যাহর বাজার সংলগ্ন উদয়ন বিদ্যা নিকেতনে এ ঘটনা ঘটে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি এতে ১০লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। রাতে ওই বিদ্যালয়ে কোন নৈশ প্রহরী না থাকায় অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী জানায়,
রাত আড়াইটার দিকে বিদ্যালয়ের টিন শেড ঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দলকে খবর দেয়। রাত ৩টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দল ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে বিদ্যালয়ের ৬কক্ষ বিশিষ্ট ঘর, আসবাব পত্র, বৈদ্যুতিক পাখা সহ সকল মালামাল পুড়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি প্রতিহিংসা বশত একদল অজ্ঞাত দুূর্বৃত্ত গভীর রাতে দাহ্য পদার্থ দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিদ্যালয়টি আসবাবপত্র সহ পুড়ে দিয়েছে। এতে ১০লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল হক, প্রধান শিক্ষক হিমাংশু কুমার দাস ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. আবুল কাসেম এসব দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল হক বাদি হয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু সোনাগাজী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জামিল আহমেদ বললেন ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হতে পারে। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব ও চরচান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নাই, সেহেতু তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা যাবেনা। স্কুলকর্তৃপক্ষ আইনগতভাবে বিচার চাইলে থানা পুলিশ সর্বত্মক সহযোগিতা করবে।
প্রসঙ্গত; চরচান্দিয়া গ্রামের দুই শিক্ষাণুরাগী মো. আবদুল হাই ও জাহিদুল হক নবী উল্যাহর বাজার সংলগ্ন স্থানে ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়ে ৩শ’ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ও ১২জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।