সোনাগাজীতে কৃষি জমির মাটি ইট ভাটায় বিক্রি  ফসলি জমি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : January, 21, 2020, 6:24 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>> ফেনীর সোনাগাজীতে কৃষি জমির মাটি ইট ভাটায় বিক্রির ফলে ফসলি জমি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। কৃষি জমির মাটি বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় গ্রামবাসী মঙ্গলবার দুপুরে ৩টি ট্রাক্টর আটক করেছে। এলাকাবাসী জানায়, আমিরাবাদ ইউনিয়নের নিজাম উদ্দিন মুন্না ও মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গত কয়েক দিন যাবৎ আমিরাবাদ ও মতিগঞ্জ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় গ্রাম ও স্বরাজপুর গ্রামের চড়ইয়া হাতর থেকে ফসলী জমির মাটি উত্তোলন করে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পাকা পুল, কালভার্ট ও সড়ক ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতে বিক্ষব্ধ এলাকাবাসী মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবুর সহযেগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাজপুর গ্রাম থেকে মাটি সহ ৩টি ট্যাফে ট্রাক্টর আটক করে।

মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও একাধিক সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন যাবৎ মতিগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফসলী জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করে আসছে। যার ফলে সড়ক, পুল ও কালভার্টগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ৩টি ট্রাক্টর আটক করে আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে হাজীর হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করি। স্বরাজপুর গ্রামের কৃষক নাছির উদ্দিন জানান, একজন লোক থেকে ফসলি জমির মাটি ক্রয় করে মাটি দস্যু চক্রটি সে সহ বেশ কয়েকজন কৃষকের ফসলি জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক মাটি বহন করে নিচ্ছে। ফলে নিরিহ কৃষকদের ফসলি জমির চরম ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে তারা। মাটি দস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেননা। একই গ্রামের কৃষক নাছির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিরুপায় হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলে তিনি গ্রামবাসীকে ট্রাক্টরগুলো আটকের নির্দেশ দেন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ট্রাক্টরগুলো আটক করলে তিনি ঘটনাস্থলে যান। আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার গোলাম কিবরিয়া শামীম জানান, ব্যপারী বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গত কয়েক দিন যাবৎ চরকৃষ্ণজয় গ্রামের ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে রাস্তা-ঘাটের চরম ক্ষতি করেছে। দুই-তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তারও চরম ক্ষতি করেছে। ইতোমধ্যে নবনির্মিত একটি সড়ক যানচলালের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ফসলি জমির পাশাপাশি ওই এলাকার রাস্তাঘাট বিলিন হয়ে যাবে।

এ ব্যপারে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব জানান, ফসলি জমির মাটি বিক্রির ব্যপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যপারে মাটি বিক্রি সিন্ডিকেটের হোতা নিজাম উদ্দিন মুন্না জানান, আমি এক মহিলার কাছ থেকে মাটি ক্রয় করে ব্যবসা করে যাচ্ছি।