সোনাগাজীতে রাস্তা তৈরি ও রাতের আঁধারে কাটা নিয়ে উত্তেজনা

আপডেট : February, 15, 2020, 4:58 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় গ্রামে রাতের আঁধারে রাস্তা তৈরি ও কাটা নিয়ে উত্তেজনা চলছে। গত কয়েক দিন ধরে এনিয়ে দুই পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করেছে এলাকাবাসী। এক পক্ষে লড়ছেন আমিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির আরেক পক্ষে লড়ছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া শামিম। যদিও ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য নিজেদের জড়িত থাকার ব্যাপারে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলেও স্থানীয় আধিপাত্যের নেপথ্যের বিরোধের জেরে দুইটি পরিবার বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা করেছে স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি মীমাংসাযোগ্য একটি তুচ্ছ বিষয়কে নিষ্পত্তি না করে রজস্যজনক কারণে বিরোধ লেলিয়ে দিয়ে দুইটি পরিবারকে সর্বশান্ত করার পাঁয়তারা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। দুই পক্ষের মাঝে বিরোধে ভাড়ায় খাটছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পাল্টাপাল্টি সশস্ত্র মহড়া দেয়ার খবরও পাওয়া গেছে। চলাচলের রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধ চলছে চরকৃষ্ণজয় গ্রামের দরিদ্র সিএনজি অটোরিক্সা চালক জাকির আহম্মদ ও প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের সাথে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিএনজি অটোরিক্সা চালক জাকির আহম্মদ ১০-১২বছর পূর্বে প্রায় ৫২ শতক জমিতে বসত বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। বসতবাড়ির সামনের অংশে তার মালিকীয় জমিগুলো কয়েক বছর আগে প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলামের নিকট বিক্রি করে দেন। সম্প্রতি সিরাজুল ইসলাম তার মালিকীয় ৪০ শতক জমি বিক্রি করার প্রস্তাব করলে জাকির আহম্মদ তার চলাচলের রাস্তার জন্য ৪শতক জমি ক্রয় করার ইচ্ছা পোষণ করলে সিরাজুল ইসলাম প্রতি শতক জমি ৫৫হাজার টাকা করে বিক্রি করতে সম্মত হন। প্রতিবেশী খুরশিদ আলমের মধ্যস্থতায় সিরাজুল ইসলামের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার স্ত্রীর নিকট ২০হাজার টাকা জমাও দেন জাকির আহম্মদ। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাকির আহম্মদ উক্ত জমির উপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরি করেন। এদিকে আরেক প্রবাসী মো. মিলন একই দামে ৪০ শতক জমি ক্রয় করার প্রস্তাব করলে সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী জাকির আহম্মদের নিকট জমিটি বিক্রি করবেনা বলে জানিয়ে দেন। যদি ক্রয় করতে হয় তাহলে ৪০ শতক জমিই জাকিরকে ক্রয় করতে হবে বলে শর্ত  জড়িয়ে দেন। দরিদ্র অটোরিক্সা চালক জাকিরের পক্ষে ৪০ শতক জমি ক্রয় করার সামর্থও নেই। এদিকে প্রবাসী মিলনও জানিয়ে দেন তার নিকট পুরো ৪০শতক জমি বিক্রি না করলে তিনি বাকী অংশ জমি ক্রয় করবেননা। এনিয়ে বিরোধ দেখা দিলে অটোরিক্সা চালক জাকির আহম্মদ স্থানীয় আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহিরের দ্বারস্থ হন। চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী রেজিয়া খাতুনকে পরিষদে ডাকলে তিনি হাজির না হয়ে থানায় জাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। এদিকে প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় সন্ত্রাসী সাখাওয়াত হোসেন, নূরনবী নূরকরিম, এনামুল হক ও সোহেল সহ ১৫-২০ জনকে ভাড়া করে এনে জাকির আহম্মদের নবনির্মিত রাস্তাটি কেটে সাবাড় করে ফেলেন। রাস্তা কাটার ব্যাপারে জাকির আহম্মদ স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া শামীমকেও দায়ী করেছেন। অপর দিকে বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে জাকির আহম্মদ কার খুঁটির জোরে রাস্তা নির্মাণ করেছেন, এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া শামীম এই ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে অস্বীকার করেছেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির তার জড়িত থাকার বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, দুই পক্ষই আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। একটি গ্রুপ প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে তুলে দিয়েছেন। জাকির আহম্মদ অসহায় একজন সিএনজি অটোরিক্সা চালক। সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটি পা পঙ্গু হয়ে গেছে। তার বিক্রিত জমিতে তাকে চলাচলের রাস্তা তৈরি করতে সিরাজের উচিত তার কাছে ৪শতক জমি বিক্রি করা। তারা একটু মানবিক হলে আর বিরোধ থাকেনা। একটি গ্রুপ অযাচিত হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি ঘোলা করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। এ এব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই পক্ষের উত্তেজনা নিবৃত্ত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। আশা করছি কোন আপ্রীতিকর ঘটনা আর ঘটবেনা। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বহিরাগত বা ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা অপকর্ম করতে তৎপর হলে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।