সোনাগাজীর সাতবাড়িয়া ঠিকাদারের উদাসীনতায় দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, ঠিকাদার ছালেহ বাবুলের ফাঁসি দাবি

আপডেট : March, 6, 2020, 3:49 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>ফেনীর সোনাগাজীতে ঠিকাদারের উদাসীনতায় নির্মাণাধীন বক্সকালভার্টের গর্তে পড়ে আজিজুল হক সাহেদ (২৬) ও জিয়া উদ্দিন বাবলু (২৫) নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে সোনাগাজী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের মতিগঞ্জের সাতবাড়িয়া ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, চট্রগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানার ধুম ইউনিয়নের নাহেরপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আজিজুল হক সাহেদ এবং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ইমামপুর গ্রামের বশির আহম্মদের ছেলে জিয়া উদ্দিন বাবলু।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতদের পরিবার জানায়, সোনাগাজী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতবাড়িয়া ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন স্থানে প্রায় ৫০লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে গত এক মাস পূর্ব থেকে একটি বক্সকালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরু করেন মেসার্স ছালেহ আহমদ এন্টারপ্রাইজ। দুর্ঘটনা এড়াতে কালভার্টের দুই পাশে প্রতিরোধক এবং রাতের বেলায় কোন প্রকার লাইটিংয়ের ব্যবস্থা না করে সড়কের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখেন ওই ঠিকাদারী। এর মাঝে গত কয়েকদিন পূর্বে পৃথক ঘটনায় একটি মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিক্সা ওই গর্তে পড়ে ১০জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হন।

বৃহস্পতিবারদিবাগতরাত সাড়ে এগারটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে ওই দুই যুবক ফেনীরলালপুল হয়ে সোনাগাজীর দিকে যাচ্ছিলেন। অন্ধকার রাতে সড়কে কোনগতিরোধক না রাখায় গর্তে পতিত হয়ে তারা গুরুত্বরআহতহন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুল হক সাহেদ কে ও জিয়া উদ্দিন বাবলু কে চট্রগ্রামমেড়িকেলকলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে কর্তব্যরতচিকিৎসক তাকেমৃত ঘোষণা করেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জহির আব্বাস স্বপন ঠিকাদারের উদাসীনতাকে দায়ী করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। তিনি ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ফাঁসি দাবি করেছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হালিমুর রহমান জানান, তিনি ঠিকাদারের উদাসীনতার কথা শুনেছেন। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ছালেহ বাবুলের মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।