সোনাগাজীতে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ জন প্রধান শিক্ষক

আপডেট : March, 13, 2020, 6:57 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
ফেনীর সোনাগাজীতে চরচান্দিয়া হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ জন প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। কাগজে-কলমে একজন থাকলেও অন্যজন বিনা স্বাক্ষরে ১৬ মাস কর্মরত থেকে বেতনভাতা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যিনি বিনা স্বাক্ষরে বেতন ভাতা তুলে নিচ্ছেন ইতোমধ্যে একাধিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একাধিক স্কুল থেকে তাৎক্ষণিক বদলী করলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নৈতিক স্থলনজনিত কারণে একাধিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সহ সংশ্লিষ্টরা তাকে গ্রহণ করেনি। এমনই দুইটি বিদ্যালয়ে তাকে গ্রহন না করায় এই জটিলতা সৃষ্টি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বিনা স্বাক্ষরে বেতন ভাতা উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়েছেন। এই ভাবে দীর্ঘ দেড় বছর যাবৎ সে বেতন ভাতা উত্তোলন করছে। তিনি হচ্ছেন হোসেন মাস্টার সকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র রায়। তিনি ২০১৩ সালে লোহাগড়া থেকে বদলী হয়ে সোনাগাজীতে বদলী হয়ে আসেন। চরচান্দিয়া লন্ডনীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ৫ম শ্রেনির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় হাতে নাতে ধরা পড়েন তিনি। সেখান থেকে গণরোষ ঠেকাতে তাকে পশ্চিম চরচান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়। সেখানেও একজন ছাত্রীকে যৌন নিপড়নে হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। সেখান থেকে তাকে বদলী করা হয় দক্ষিণ চরচান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তার বিরুদ্ধে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। তার নৈতিক স্থলনজনিত ঘটনার সত্যতা পেয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার তাকে শোকজ করলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে আবার কর্মস্থলে যোগদান করেন। ২০১৬ সালে দক্ষিণ চরচান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি তাকে গ্রহণ না করে নৈতিক স্থলনজনিত ঘটনার কথা উল্লেখ করে তৎকালীণ উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান জেডএম কামরুল আনামেরর নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করেন। জনরোষ ঠেকাতে ঘটনাটি তদন্ত করে তাকে হোসেন মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সেলিম সহ এলাকাবাসী তাকে গ্রহণ না করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তৎকালীণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে মৌখিকভাবে হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। এরপর তিনি কাগজে কলমে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন হোসেন মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। কিন্তু কর্মরত রয়েছেন এবং বিনা স্বাক্ষরে শ্রেনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে কাগজে কলমে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মাস্টার নিজাম উদ্দিন। সচেতন এলাকাবাসীর প্রশ্ন! নারায়ণ চন্দ্র রায় যেহেতু একাধিক ঘটনায় নৈতিকস্থলন জনিত কারণে একাধিবার তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, সেহেতু তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে লুকোচুরির মাধ্যমে পদায়ন করে তার কাছ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাগণ অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতেন। এসব ঘটনায় একাধিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি হলেও রহস্যজনক কারণে নারায়ণ চন্দ্র রায়ের কোন শাস্তি কিন্তু হয়নি। অন্যদিকে তার কর্মস্থল হোসেন মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা তমা বসাক স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে সরকারি স্লিপের টাকা উত্তোলন সহ শিক্ষকদের ছুটি ইত্যাদি বিষয়ে কর্তৃত্ব করে যাচ্ছেন। তিনি আবার নিজের ইচ্ছে মত নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে বেতন ভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধেও পাওয়া গেছে অবৈধভাবে নিয়োগের গুরুত্বর অভিযোগ। হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, চর চান্দিয়া হোসেন মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র রায় দীর্ঘ ১৬ মাস ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। তবে তিনি কোনো বদলিপত্র বা নিয়োগপত্র দেননি। হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর নেই। তবে তিনি কীভাবে বেতন উত্তোলন করেন তা তিনি জানেন না।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ফেনীর সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামানের যোগসাজশে নারায়ণ চন্দ্র রায় নিজ কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বিনা হাজিরায় বেতন নিচ্ছেন।
২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেলেও বিদ্যালয় কমিটির অস্বীকৃতির কারণে যোগ দিতে পারেননি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, চরচান্দিয়া হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা থাকায় মৌখিকভাবে তাকে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়।

ফেনী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টা আমি জানতাম না, শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে নারায়ণ চন্দ্র রায় জানান, কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে আমি হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনি কার্যক্রম চালাচ্ছি। হোসেন মাস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন উত্তোলনের ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।