সৌদি চরম খাদ্য ও আর্থিক সংকটে প্রবাসীরা সহযোগীতা পাচ্ছে না কনস্যুলেটে থেকে

আপডেট : April, 14, 2020, 9:48 pm

জিয়া উদ্দিন, জেদ্দা প্রতিনিধি:

 

 

সৌদীআরবের জেদ্দা-মক্কা-তায়েফ অন্ঝল গুলোর প্রবাসী বাংলাদেশীরা চরম খাদ্য ও অর্থিক সংকটে পড়ছে। গত ৬‌ এপ্রিল পূর্ণ লগডাউন হওয়ার কারণে এখানকার অবস্থানরত বাংলাদেশীরা বিপাকে পড়ে। তাদের ব্যাবসা বানিজ্য ও চাকুরী বন্ধ হয়ে যায়। মাসের শুরুতে লগডাউন হওয়ায় অনেকে বেতন পায়নি এবং কেউ কেউ পেলেও বাংলাদেশে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয় তাতে করে তারা আর্থিক সংকটে পড়তে হয়।

ভিবিন্ন অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে যানাযায়, ছোট বড় কোম্পানি এবং ভিবিন্ন হোটেল রেষ্টুরেন্ট গুলোতে চাকুরী করা প্রবাসীদের ছুটি হওয়ায় সবাই বাসার মধ্যে অবস্থান করছে। কোম্পানি এবং মালিকানাধীন কর্মচারীরা বেতন না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়ছে। তারা জেদ্দা কনস্যুলেটে সাহায্যের যোগাযোগ করার পরও কোন প্রকার প্রতিকার পায়নি। অনেকেই অনেকবার কল দেয়ার পরও কল রিসিভ করা হয়নি এবং ই-মেইল করে আর্থিক এবং খাদ্য সামগ্রী সাহায্যের পরেও কোন প্রকার উত্তর পায়নি।

তায়েফ থেকে সাইফুল মালেক ফয়সাল নামে একজন প্রবাসী বললেন, আমি আজ ৫ দিন যাবত কনস্যুলেটে কল করতে করতে তারা কল ধরেনা। আমাদের দোকান বন্ধ করায় আমি আজ ১ মাস যাবত বাসায় বসে আছি আর কতদিন বসে থাকতে হবে আল্লাহ ভালো যানে।

জেদ্দা বসবাসরত সালাউদ্দিন নামে আরেক প্রবাসী বললেন, আমরা পুরা লগতাউন পড়ায় অর্থিক ও খাদ্য সমস্যা পড়ে গেছি। যা কেনাকাটা ছিলো সব শেষ হয়ে গেছে। কয়কবার কনস্যুলেটে যোগাযোগ করার পরও কোন প্রকার সহযোগীতা পাওয়া যায়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন জেদ্দা কনস্যুলেটে হচ্ছে দূর্নীতির আকড়া। তারা কখনো বাংলাদেশী প্রবাসীদের পার্শ্বে থাকেনা। এমন কনস্যুলেটে থাকার ছেয়ে না থাকা ভালো। তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্থক্ষেপ কামনা করেন।

মক্কায় কয়এক জন প্রবাসীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন এমত অবস্থায় হতে থাকলে আমরা খাদ্যের অভাবে বাসায় না খেয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে। একদিকে করোণা আরেক দিকে খুধার জ্বালা আমাদের মৃত্যু বরণ করতে হবে। এমতাবস্থায় যদি জেদ্দা কনস্যুলেটে থেকে আমাদের সহযোগীতা না করে তাহলে এখানকার লক্ষ লক্ষ শ্রমীক মৃত্যুর মুখে পড়তে হবে। আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অকুল আবেদন করি আপনি হয় আমাদের জন্য কিছু করেন না হয় আমাদের দেশে নিয়ে জান। এখানে আমরা রোগ এবং না খেয়ে মরতে পারবো না। তারা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা করেন।

এদিকে দিন দিন করোণার প্ররিস্থিতি সৌদীআরবে খারাপ অবস্থায় যাচ্ছে তবে সৌদী সরকার ভিবিন্ন ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহন করছে। তবে খুব আতংকে আছে বাংলাদেশী শ্রমিকরা। সৌদি আরবে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৪২৯ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ৫ জনের মৃত্যুর পর দেশটিতে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৫৯ জন।

মৃতদের তালিকায় রয়েছেন ১০ প্রবাসী বাংলাদেশিও। সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত মোট চার হাজার ৬২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশটিতে কারফিউ চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল-সৌদ।

এর আগে, ২৩ মার্চ ২১ দিনের কারফিউ জারি করেছিল সৌদি প্রশাসন। গত সপ্তাহে রাজধানী রিয়াদ, তাবুক, দাম্মাম,দাহরান, হফুফ,জেদ্দা, তায়েফ, কাতিফ ও খোবারের মতো বড় শহরগুলোকে ২৪ ঘণ্টা কারফিউর আওতায় নিয়ে আসা হয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, নতুন করে অনির্দিষ্টকাল কারফিউর মেয়াদ বাড়ানোর রাজকীয় নির্দেশ মেনে চলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সৌদিতে করোনায় ১০ মৃত বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয়:

১. কোরবান, পিতা: রেজাউল করিম, মাতা: হালিমা, গ্রাম: সদরপুর পুরান বাড়ি, পোস্ট: নগরকোন্ডা, উপজেলা সাভার, জেলা ঢাকা।
২. মোহাম্মদ আফাক হোসেন মোল্লা, পিতা: মোঃ আমজাদ হোসেন, মাতা: আনোয়ারা খাতুন, গ্রাম: মাসুম দিশা, পোস্ট: রতন গাও, উপজেলা/জেলা: নড়াইল।
৩. মোহাম্মদ হাসান, পিতা: লিয়াকত আলী, মাতা: শামসুন্নাহার, গ্রাম: চোখ ফেরানো, পোস্ট অফিস: বড় হাতিয়া, উপজেলা: লোহাগড়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
৪. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিতা: মুজাফফর আহমেদ, মাতা: দিলোয়ারা বেগম, গ্রাম: আজিমপুর, পোস্ট অফিস: চাঁদাহা, উপজেলা: সাতকানিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
৫. মান্নান মিয়া, পিতা: আজিজুল হক, মাতা: ফুলজান, গ্রাম: মাধবপুর, পোস্ট অফিস উপজেলা: সিংগাইর, জেলা: মানিকগঞ্জ।
৬. মোঃ রহিম উল্লাহ, পিতা: ফয়েজ উল্লাহ, গ্রাম: পালিগ্রাম, পোস্ট অফিস: ইজ্জত নগর, উপজেলা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম।
৭. খোকা মিয়া, পিতা: সিরাজ উদ্দিন, মাতা: রহিমা বেগম, গ্রাম: বড়গ্রাম, পোস্ট অফিস: সাতপাড়া, উপজেলা: শিবপুর, জেলা: নরসিংদী।
৮. নাসির উদ্দিন, পিতা : মোকতার আহমেদ, গ্রাম : অউশিয়া, পোস্ট অফিস :দেউদিঘী, থানা সাতকানিয়া জেলা চট্টগ্রাম।
৯. মোহাম্মদ হোসাইন, পিতা : সৈয়দ আহাম্মেদ, থানা : ভোলা সদর, জেলা ভোলা ।
১০. আব্দুল মোতালেব, পিতা : আব্দুল জলিল, পাবনা।

এব্যাপারে সৌদীস্থ জেদ্দা কনস্যুলেটে কল করা হলে তারা কল রিসিভ করেনি। তাছাড়া ইমেইল এবং ক্ষুদে র্বাতা পাঠানো হলেও উত্তর না দেয়ার কারণে কনস্যুলেটের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।