প্রবাসীদের জন্য নিরন্তর ভালোবাসা

আপডেট : April, 16, 2020, 7:03 am

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
হাদিসে আছে হাশরের ময়দানে পিতা-পুত্রকে, পুত্র-পিতাকে, ছেলে-মাকে, মা-ছেলেকে, ভাই-বোনকে, বোন-ভাইকে, স্বামী-স্ত্রীকে, স্ত্রী-স্বামীকে চিনবেনা। সবাই শুধু ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি বলে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু তার আমল তাকে কতটুকু বাঁচাতে পারবে জানিনা? ওই সময় এমন পানির পিপাসা ধরবে, পানির তৃষ্ণা মেটাতে এক গ্লাস পানির বিনিময়ে সব আমল দিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে যাবেন একজন মানুষ। তাহলে বুঝতেই পারেন সারা জীবনের আমল ইবাদত বন্দেগী শুধুমাত্র এক গ্লাস পানির বিনিময়ে পরিশোধ হয়ে যাবে!

আর এই মুহূর্তে সারা দুনিয়াতে ষোষিত/অঘোষিত অবরোধ চলছে। অবরুদ্ধ পৃথিবীর মানুষ। অবরুদ্ধ পৃথিবী। কিঞ্চিত হাশরের ময়দানের অবস্থা চলছে বিশ্বব্যাপী। করোনানামক একটি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্বামী, স্ত্রী, পিতা, মাতা, সন্তান কেউ কাউকে চিনতে রাজি হচ্ছেনা। কেন যেন পরস্পর পরস্পরকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে!

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পূর্বে প্রবাসী ভাইয়েরা যেন দেশের শত্রুতে পরিণত হয়েছিল। সচেতনতার পরিবর্তে হিংসাত্মক মনোভাব দেখিয়ে বিষোদগার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালিয়ে প্রবাসী পরিবারগুলোকে হেয় করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। প্রবাসী ভাইয়েরা সেই ধকল কবে যেন উত্তরণ করতে পারে সেটা আল্লাহ মালুম?

অনিশ্চিত জীবন নিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে দিনাতিপাত করছে প্রবাসী বীরেরা।
যে প্রবাসী বীর নিজের জীবনকে বাজি রেখে স্ত্রী, সন্তান সহ আত্মীয় স্বজনদের ভাগ্যের পরিবর্তন তথা বিলাসবহুল জীবনের জন্য অর্থ রোজগার করেছেন, সেই প্রবাসীকে ঘরে রেখে প্রিয়জনরা পালিয়ে গেছে! করোনা ভাইরাসই আপনজনের বাঁধন ছিন্ন করার বিষপোঁড়া । একটি ভাইরাসের আতঙ্কে বহু প্রবাসীর দাম্পত্য জীবনে নেমে এসেছে কালো মেঘের ছায়া।
যে প্রবাসীরা তলা বিহীন ঝুড়ি নামের বাংলাদেশকে আজকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন, সে প্রবাসীদের সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র কি করতে পেরেছে সেটা দেখার বিষয়?
করোনা ভাইরাসের পূর্বে ডাকাতির মাধ্যমে অথবা সম্পত্তি লুন্ঠনের মাধ্যমে প্রবাসীদের জীবনকে করে তোলা হতো বিভিষিকাময়!
প্রতিটি মুহূর্ত কাটতো আতঙ্ক আর উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়। এরপরও সেই প্রবাসীরা ঘুরে দাঁড়াতো নানা কষ্টে। প্রবাসীদের বুকভরা কষ্ট ভুক্তভোগীরা ছাড়া কেউ বুঝবেনা।

হ্যাঁ যে প্রবাসীদের অর্থে নির্মিত ঘরে ঠাঁই হয়নি, যে প্রবাসীদের অর্থে নির্মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা সেই প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ট্রল করে, যে প্রবাসীদের অর্থায়নে নির্মিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রবাসীদের জন্য দোয়ার পরিবর্তে, সমালোচনা করা হয়েছে, যে প্রবাসীদের অর্থায়নে নির্মিত সড়কে যাতাওয়াত নির্বিঘ্ন করার পরিবর্তে লক ডাউনের নামে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতিমাত্রায় অতঙ্ক সৃষ্টি করে অসৎ উদ্দেশ্যে যে প্রবাসীদেরকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সেই চক্রটিও আজ মহা সংকটে।

আর এই মহাসংকটে পতিত স্বজনদের জন্য জীবনের চরম ঝুঁকির মধ্যেও দেশে থাকা মানুষদের জন্য উদগ্রীব সেই প্রবাসীরা।
তারা নিজেরা লক ডাউনে চরম সংকটে থাকলেও কিন্তু দেশের মানুষদের জন্য টাকা পাঠাচ্ছেন ঠিকই। ব্যক্তিগত বা সম্মিলিতভাবে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন পরম মমতায়। আর এই প্রবাসী বীরেরাই কিছু মানুষের দ্বারা চরম শত্রু, অপমান, অপদস্থ বা হেনস্থা হলেও সেই মানুষগুলোর মুখে অন্ন তুলে দিতে এবং উন্নতমানের বস্ত্র পরিয়ে ইজ্জত ঢাকার জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

আর মানবিক, পরিশ্রমী, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সন্মানীত, ভাই, বন্ধু, পিতা, মামা, ভাগ্নে, বেয়াই, ভগ্নিপতি ইত্যাদি স্বজন প্রবাসীদের জন্য রইল হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা।
তোমাদের সমৃদ্ধি, আমাদের সমৃদ্ধি, তোমাদের জীবন, আমাদের জীবন।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে তোমাদের-আমাদের জীবন বিধ্বংসী করোনা ভাইরাসের প্রভাব থেকে মহান আল্লাহর কাছে পানাহ চাচ্ছি।
সুখে থেকো তোমরা, সুরক্ষিত থাকুক তোমাদের পরিবার বর্গ।
মহান আল্লাহ যেন তোমাদের এই ত্যাগ কবুল করে নেয়।

শুভ হোক আগামীর পথচলা, জীবন সংগ্রামে যে কোন সময় আছি তোমাদের সাথে।
কথা দিচ্ছি, তোমরা আমার ভাই, তোমরা আমার বন্ধু, তোমরাও আমার সহযাত্রী। তোমরা সবাই দীর্ঘজীবি হও।