জীবন বাঁচলেইতো জীবিকা। শাহাদাত হোসেন

আপডেট : May, 9, 2020, 9:01 am

সম্পাদকীয়-

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশব্যাপী অঘোষিত লকডাউন চললেও ঈদের আগে আগামী ১০ মে থেকে শর্ত সাপেক্ষে প্রতিদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত শপিং মল ও বিপণি বিতান খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার।
তবে চার দিন আগেই শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয় দেশের বৃহত্তম দুই প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্ক।


গনমাধ্যমের খবরে জানা যায়, দোকান মালিক সমিতি ঈদের আগে দোকান খোলার দাবি জানালেও সরকারের সুযোগ দেওয়ার পর সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েন ব্যবসায়ীরা।

তিন দিন পর শুক্রবার নিউ মার্কেট এলাকার কয়েকটি বিপণি বিতানের মালিক সমিতি আলোচনার পর দোকান বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম শাহিন গনমাধ্যমকে বলেন, “নিজেদের রুটি রুজির জন্য দোকানিরা স্বল্প পরিসরে হলেও চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন দিনে দিনে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় তারা সাহস করছেন না। সে কারণে আমরা ঈদের আগে দোকানগুলো না খোলার পক্ষেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
“কর্মচারী ও নিজের সংসারের খরচ বহনের জন্য দোকান না খুলেও উপায় নেই। আবার নিজের নিরাপত্তা, ক্রেতার নিরাপত্তা এবং সামগ্রিকভাবে দেশের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে এই পরিস্থিতিতে দোকান খোলার কোনো সুযোগ দেখছি না।”
গনমাধ্যমের খবরে আরও জানা যায়, রাজধানীর অভিজাত শপিং মলের পর এবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ শপিং মল না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার নগরীর ১১টি শপিং মলের সমিতিগুলো সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি শপিং মলের দোকান মালিক সমিতি তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অপর এক খবরে জানা যায়, ঈদের আগে সিলেট নগরীর মার্কেটগুলো খুলছে না। শুক্রবার সিটি কর্পোরেশনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিলেট চেম্বার সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় শপিং মল, মার্কেট ও ফ্যাশন হাউস না খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফরিদপুরে আসন্ন ঈদ পর্যন্ত শপিং মল ও মার্কেট বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। করোনাভাইরাস বিস্তার রোধ ও দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত বাজার মনিটরিং কমিটির সভায় নেতারা শপিং মল ও মার্কেট বন্ধ রাখার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও চেম্বার অব কমার্সকে অনুরোধ জানান। শুক্রবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন বাজার কমিটির প্রতিনিধি, কমিটির অন্য সরকারি ও বেসরকারি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খবরে আরও জানা যায়, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে কুমিল্লায় সকল শপিংমল, শোরুম, সুপার শপ, মার্কেট ও বিপণী বিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খোকন এই জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কুমিল্লা মহানগরীতে সম্প্রতি কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এতে আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি। তাই আগামী ঈদ-উল ফিতর পর্যন্ত সকল শপিংমল, শোরুম, সুপার শপ, মার্কেট ও বিপণী বিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আমরা মনে করি, করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে অঘোষিত লকডাউনে অনেকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। ঈদের আগে বিপণিবিতান খোলা না হলে ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার লোকসানে পড়তে পারেন। নানা বিবেচনায় সরকারও ঈদের কেনাকাটার জন্য সীমিত আকার মার্কেট ও শপিং মল খেলার ঘোষণা দেয়। কিন্তু এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।করোনা ভাইরাস সংক্রমন ঠেকাতে ২৬ মার্চ সাধারন ছুটি ঘোষনার আগের দিন দেশব্যাপী দোকান-পাট ,শপিং মল বন্ধ ঘোষনা করা হয়। তখন দেশে করোনার বিস্তার ছিল মাত্র দুই অংকের ঘরে।ইতিমধ্যে করোনার বিস্তার ছড়িয়েছে দেশের ৬৪ জেলায়। দুই শতাধিক প্রাণহানী ছাড়াও আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজারের বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে ফেনীর মানুষও সংক্রমনের আতংকে অস্থির।
রাজধানী ঢাকার পর চট্রগ্রাম,সিলেট,কুমিল্লা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ব্যবসায়ী নেতারা যেভাবে জীবিকার চেয়ে জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে ফেনীর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দও সময়োপযোগি প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে আশা করছি।
ফেনীর মানুষ আপনাদের দিকে চেয়ে আছে।যেখানে মানুষের জীবনই হুমকির মুখে সেখানে ঈদের কেনাকাটা গুরুত্বহীন।আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত জীবন বাঁচলেইতো জীবিকা।

সম্পাদক-দৈনিক ফেনীর সময়।