ফেনী রেল স্টেশন মাস্টারের অনিয়ম যেন দেখার কেউ নেই

আপডেট : October, 14, 2020, 9:24 am

 

জসিম উদ্দিন ফরায়েজী

ফেনী রেলওয়ে স্টেশান মাস্টার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল দিনভর ফেনী রেলওয়ে স্টেশানের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ভ্রাম্যমান হকার, দোকানী ও স্টেশানে চাকুরীরত লোকজনের সাথে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া যায়।
ফেনী রেলওয়ে স্টেশানে প্রায় ২৫টি দোকান রয়েছে। এসব দোকান রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কিন্তু স্টেশান মাস্টার মাহবুব প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন তার আজ্ঞাবহ কাশেমের মাধ্যমে ২০টাকা হারে চাঁদা আদায় করে। ফেনী রেলওয়ে জংশন হওয়ায় বিভিন্ন রুটের ট্রেন এখানে যাত্রা বিরতি করে। ফলে ট্রেনে থাকা হকারেরা ফেনী রেলওয়ে স্টেশানে নামলেই তাদের উপর নেমে আসে চাঁদাবাজির খড়ক। প্রতি হকারের কাছ থেকে স্টেশান মাস্টার মাহবুব ৫০টাকা হারে চাঁদাবাজি করে। টাকা না দিলে হকারদের সাথে থাকা মালামাল আটকিয়ে রাখে। দীর্ঘদিন থেকে ফেনী রেলওয়ে স্টেশান পার্সেল বুকিং সেকশানে কর্মকর্তা শূন্য। এ সুযোগে স্টেশান মাস্টার পার্সেল থেকে প্রতিদিন ২ হাজার টাকা কুলিদের কাছ থেকে আদায় করে। এ টাকা সাধারণত পার্সেলকারী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কুলির মাধ্যমে আদায় করা হয়। পার্সেল সেকশানে কোন অফিসার এলে স্টেশান মাস্টারের রোষানলে পড়ে এখান থেকে চলে যায়। স্টেশানের টিকেট কাউন্টার থেকে প্রতি সপ্তাহে মাহবুবকে ১৫শ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। এ চাঁদার টাকা তুলতে গিয়ে কাউন্টার সহকারীরা অনৈতিক কাজে পা বাড়ায়। যেমন- ফেনী-সিলেট পর্যন্ত শোভন শ্রেণির টিকেট ২৯৫টাকা হলেও ফেনীর কাউন্টারের লোকেরা ৭শ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। প্রতিটি গন্তেব্যের ৫০% টিকেট অনলাইনে বুকিং দেয়ার নিয়ম রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহকারী স্টেশান মাস্টাররা প্রতিদিন সকাল সকাল টিকেটগুলো নিজেরাই কেটে নেয়। পরবর্তীতে যাত্রী সাধারণ স্টেশানে এলে উক্ত টিকেট দ্বিগুন-তিনগুন মূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রয় করা হয়।
এছাড়াও ফেনী রেলওয়ে স্টেশান পরিষ্কার করার জন্য ৮জন চুক্তিভিত্তিক সুইপার ও ঝাড়–দার নিয়োগ দেয়া হয়। কাগজে কলমে ঝাড়–দার সুইপার থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। রেলওয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশান ভিজিট করতে এলে ভ্রাম্যমান লোকদের ঝাড়–দার সুইপার সাজিয়ে অফিসারদের সামনে হাজির করা হয়।
জানা যায়, ৮জন সুইপার ঝাড়–দারের মাসিক সাকুল্যে বেতন ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এ টাকা পুরটাই স্টেশান মাস্টারের মাধ্যমে বাটোয়ারা করা হয় বলে জানিয়েছেন স্টেশনে কর্মরত নিহীর টাইফের একাধিক চাকুরীজীবী।
আরও জানা যায়, স্টেশানের দোকানদার বাবুল, মাস্টার মাহবুবের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে থাকে। এগ্রুপে আরও রয়েছে নবী, কাশেম ও নুরইসলামসহ অনেকে।
সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী বিধান অনুযায়ী যে কোন সরকারী চাকুরী একজায়গায় ৩ বছরের অধিক থাকার নিয়ম নেই। কিন্তু স্টেশান মাস্টার মাহবুব ফেনীতেই অবস্থান করছেন প্রায় ১৬ বছর। বেশ কয়েকবার তার বদলির আদেশ হলেও অজ্ঞাত কারণে বদলির আদেশ ঠেকিয়ে দেয়া হয়।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে স্টেশান মাস্টার মাহবুবের সাথে মোবাইলে (০১৮২৯ ৫৭৪৪৭৭) যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কিছুলোক মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মনগড়া কল্প কাহিনী সাজিয়েছে। আমি এসবের মধ্যে নেই। দীর্ঘদিন ফেনী স্টেশানে থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি সরকারী চাকুরী করি। সরকারের স্বার্থে আমি এখানে আছি। সরকার না চাইলে আমি চলে যাবো। সাধারন যাএীদের দাবি মাষ্টার মাহবুবের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক,পাশা পাশি ষ্টেশানে সকল অনিয়ম বন্ধ যাএী সেবা নিশ্চিত করা হোক।