নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের এক বছরে পরিবারের দাবি কোন অজুহাতেই যেন খুনীরা পার পেয়ে না যায়

আপডেট : October, 24, 2020, 5:47 pm

বিশেষ প্রতিনিধি->>>
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ের এক বছর পূর্ণ হয়েছে ২৪ অক্টোবর।
২০১৯ সালের এ দিনে নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা ঘটনার ২০০ দিনের মাথায় ৬১ কার্যদিবস শুনানির পর ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাসহ ১৬ জনের ফাঁসির রায় দেন ও এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। এর মধ্যে ৪জন আসামি খালাস চেয়ে উচ্চাদলতে আইনজীবীদের মাধ্যমে আপীল করেছেন। বাকী ১২জন আসামি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপীল করেছেন। মৃত্যৃদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে অন্য মামলা থাকায় উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর, সাবেক পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকসুদ আলমকে ফেনী কারাগারে রাখা হয়েছে। কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা কে রাখা হয়েছে চট্রগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন ও মোহাম্মদ শামীম কে রাখা হয়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ফেনী জেলখানার জেলার মো. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি হাইকোর্টের আপিল বিভাগে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজান সাজু বলেন,২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক (মামলার যাবতীয় নথি) ছাপানো শেষ করা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। করোনা ভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতি কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির শুনানি হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। পূজার ছুটি শেষ হলে আমরা মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানব।
রায়ের এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিনা আক্তার বলেন, খুনিরা আমার বুকের মানিক রাফিকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আজ দেড় বছর আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। দুই চোখের পাতা বন্ধ করলে রাফির পোড়া শরীর আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাই, উচ্চ আদালতে মামলাটির কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক। কোন অজুহাতেই যেন খুনিরা পার পেয়ে না যায়।
মামলার বাদী নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শতভাগ আস্থাশীল। নিম্ন আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি, আশা করছি উচ্চ আদালতেও আমরা ন্যায় বিচার পাব। নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়িটি এখনো পুলিশ পাহারা দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসার কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।