ফেনীর পরশুরাম ও পৌর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন। আলোকিত সময়

আপডেট : November, 4, 2020, 6:55 pm

বিশেষ প্রতিনিধি –

সদ্য ঘোষিত পরশুরাম উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবীতে ৪ঠা নবেম্বর বুধবার সকালে পরশুরামের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন পরশুরাম উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত মিছিল নিয়ে নেতৃবৃন্দ পরশুরাম পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ ও আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেন।

উপজেলার সভাপতি আবু নাছেরের সভাপতিত্বে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু তালেব মজুমদার, সাধারন সম্পাদক ওলিউর রহমান, সাবেক সাধারন সম্পাদক জাফর উল্লাহ, সাবেক সহ-সভাপতি নুর উল্যাহ চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক করিমুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাহার উদ্দিন সফদার, সাবেক যগ্ম সম্পাদক এবিএম দাউদ হোসেন, চিথলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত নওশের, মির্জা নগরের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ফেনী-১ আসনে নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ও পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আবু তালেবের অনৈতিক হস্তক্ষেপ ও স্বেচ্ছাচারিতার কাছে অনেকটা অসহায় ও বাধ্য হয়ে তাদের পছন্দমত ব্যক্তিদের রেখে জেলা কমিটি উপজেলা কমিটির অনুমোন দেন। এই কমিটির অনেকেই এলাকায় অবস্থান না করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন এবং এবং ইতিপূর্বে বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত না থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে মনগড়া কমিটি অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগ করেন বক্তারা।

তারা আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অমান্যকরে পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষনা করেন আবদুল হালিমকে। যিনি স্ব-পরিবারে ঢাকায় অবস্থান করে আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করে ব্যাবসা বানিজ্য করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি পূর্বে বিএনপির কোন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদ এর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করে অল্প সময়ে উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক কি করে হয় এমন প্রশ্ন করে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল মনির একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো। তিনিও দলে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি করার অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে কি ভাবে নেতৃত্ব দেওয়া হয় এমনও প্রশ্ন করেন অনেকে। উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা থাকলেও ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই এটি আওয়ামী লীগের সাথে আতাতের সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলে দাবী করেন উপজেলার উচ্চ পদস্থ নেতারা।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কাজী ইউসুছ মাহফুজের বিরুদ্ধেও রয়েছে নিজে সহ স্ব-পরিবারে আওয়ামী পন্থী হবার অভিযোগ। তিনিও কখনো বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে ছিলেন না। এছাড়াও তার বাবা পৌর আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, তার মেজো ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং তার আরেক ভাই শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি পদে দাযিত্ব পালন করে আসছেন।

 

প্রকাশ থাকে যে, মাহফুজ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের নিকট আত্বীয় ও আশীর্বাদ প্রাপ্ত বলে জানান সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত বক্তারা।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু নাছের চৌধুরী জানান,, ফেনী-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুকে প্রার্থী করা হয়। তখন থেকে মজনু ও আবু তালেব তাদের একান্ত অনুসারী তৈরির লক্ষ্যে সাংগঠনিক নিয়ম- নীতি তোয়াক্কা না করে মনগড়া কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ছাত্রদল, যুবদল সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে নিজস্ব ব্যক্তিদের স্থান করে দেওযা জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে চলেছেন। যার ফলশ্রুতিতে শুধু পরশুরাম নয়, পুরো ফেনী-১ আসনে বিভিন্ন ভাবে দলের ঐক্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে। নাছের চৌধুরী আরো জানান, ক্যাসিনো ক্যালেঙ্কারীর খলনায়ক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি (মজনু) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে দলের নেতাকর্মী সহ সিনিয়র নেতাদের সাথে অশোভন ও উদ্যত্বপূর্ণ আচরণ করে থাকেন। এই ভাবে চলতে থাকলে বেগম জিয়ার ফেনী আসন কলঙ্কিত হবে বলে তিনি দাবী করেন। তিনি বিষয় গুলো তদন্তপূর্বক রফিকুল আলম মজনু ও আবু তালেবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২রা নবেম্বর ফেনী জেলা বিএনপি, পরশুরাম উপজেলায় আবদুল হালিম কে আহ্বায়ক ও ইব্রাহিম খলিল মনিকে সদস্য সচিব এবং পৌর বিএনপিতে কাজী ইউসুফ মাহফুজকে আহ্বায়ক করে উপজেলা ও পৌর বিএনপিতে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন।