সোনাগাজীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : February, 17, 2021, 11:44 am

স্টাফ রিপোর্টার->>>
ফেনীর সোনাগাজীতে জমির বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেদের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে মামলা দিয়ে হয়ারানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলেন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার। মামলার বাদি ও সাক্ষীদের ধরে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিও জানিয়েছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর-তিনবাড়িয়া গ্রামের গণু মিয়া হাজী বাড়ির শহীদ উল্যাহর স্ত্রী কহিনুর আক্তার। এসময় মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আসামি দিন মজুর জসিম উদ্দিনের মা বদরের নেছা, পিতা মৌলভী আবুল কালাম, স্ত্রী আমেনা খাতুন, মুসা মিয়ার মা আফরোজা বেগম উপস্থিত ছিলেন। কহিনুর আক্তার অভিযোগ করেন তার স্বামী মো. শহীদ উল্যাহ একজন সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ছিলেন। তার রক্তে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৫বছর পূর্বে সোনাপুর বাজারে দেড় শতক এবং তৎসংলগ্ন মানু হাজী বাড়ির মুসা মিয়া ও তার মায়ের কাছ থেকে বাড়ির অংশ সহ তাদের স্বামী-স্ত্রীর নামে ১৫শতক জমি ক্রয় করে ভোগ দখলকার রয়েছেন। সোনাপুর বাজারের দেড় শতকের মধ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর পূর্বে চা দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। বাড়ির অংশের জমিতেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে রয়েছেন। সম্প্রতি তাদের দোকান ঘরের টিন মেরামত করতে গেলে কতিপয় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের ইন্ধনে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মানু হাজী বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ উল্যাহ গং উক্ত জমিতে মালিকানা দাবি করে বাধা প্রদান করেন। এনিয়ে জমির মালিকানার সপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থায় থানায় ও এলাকায় একাধিকবার সমঝোতা বৈঠকে বসেন। প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ উল্যাহ গং মালিকানার সপক্ষে কোন কাগজ উপস্থাপন করতে পারেননি। তারপরও গায়ের জোরে তারা পাওনা দাবি করে বাধা দিলে তার স্বামী শহীদ উল্যাহ বাদি হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। গত ৮ফেব্রুয়ারি সোমবার তাদের মালিকীয় দোকানঘরটি সংস্কার কাজ শুরু করেন । দুপুর ১২টার দিকে সোনাপুর গ্রামের মানু হাজী বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ উল্যাহ, শরীয়ত উল্যাহ, আহম্মদ উল্যাহ, মো. ওমর ফারুক ও মৃত আবদুল শুক্কুরের ছেলে ফকির আহম্মদ সহ ১০-১৫জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী এসে অতর্কিত হামলা করে।
এসময় কহিনুর ও তার ঝা লায়লা বেগমকে কিলঘুষি লাথি মেরে আহত করে এবং প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। তার ব্যবহৃত দশ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন, ১২ আনা ওজনের ৩৫হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্নের চেইন আমার ঝা লায়লা বেগমের ১০আনা ওজনের ৩০হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্নের চেইন লুটে নেয়। মামলা মকদ্দমা করলে আমাদেরকে খুন করে লাশ গুমের হুমকি দেয়। তাদের মার্কেটের অপর ব্যবসায়ী, আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব নবী ফরহাদ সহ বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদেরকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ উল্যাহ গংদের বিরুদ্ধে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলটি আমলে নিয়ে আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। এদিকে একই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ উল্যাহ বাদি হয়ে তার স্বামী শহীদ উল্যাহ এবং তাদের সম্ভ্রম রক্ষাকারী যুবলীগ নেতা আইয়ূব নবী ফরহাদ সহ কয়েকজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেন। তার স্বামীসহ আসামিরা আদালত থেকে জামিন পান। প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ উল্যাহ গংদের বাড়ির সামনে সোনাপুর বাজারে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত তিনটার দিকে তাদের মালিকীয় একটি লক্কর ঝক্কর পিকআপ ভ্যানে রহস্যজনক আগুনের সূত্রপাত হয়। তাদের পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে তার স্বামী শহীদ উল্যাহ, জসিম উদ্দিন ও তাদের সম্ভ্রম রক্ষাকারী সেই যুবলীগ নেতা আইয়ূব নবী ফরহাদকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় আরো একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। ঘটনাস্থল থেকে তাদের বাড়ি প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে। এছাড়া সোনাপুর বাজারে নৈশ প্রহরীরাও পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন । তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার স্বামী ও তাদের সম্ভ্রম রক্ষাকারী আইয়ূব নবী ফরহাদ ও জসিম উদ্দিনকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আহম্মদ উল্যাহ, মোহাম্মদ উল্যাহ, শরীয়ত উল্যাহ, ফকির আহম্মদ গং পরস্পর যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে নিজেদের লক্কর ঝক্কর পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেছেন। তাই মামলাটির বাদি ও সাক্ষীদের ধরে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান তিনি। আরো দাবি করেন ১৫ফেব্রুয়ারি রাত তিনটার সময় ঘটনার কথা উল্লেখ করা হলেও তার স্বামী তার বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। অপর আসামি জসিম উদ্দিনও তার নিজ বাড়িতে ছিলেন। আরেক আসামি আইয়ূব নবী ফরহাদ চট্রগ্রামে ছিলেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাংসদ মাসুদ উদ্দিন চৌধূরী, ফেনীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসির সহযোগিতা চেয়েছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে শরীয়ত উল্যাহ নিজেকে ইত্তেফাক পত্রিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তাদের সম্ভ্রম রক্ষাকারী প্রতিবাদী যুবলীগ নেতা আইয়ূব নবী ফরহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক সংবাদ প্রচার করিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিরিহ পরিবার গুলোর সদস্য হিসেবে অত্যাচারী, সন্ত্রাসী, প্রতারক মোহাম্মদ উল্যাহ গংদের অপপ্রচার, মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে চান তারা।