সোনাগাজীর বগাদানায় মামলাবাজ যাত্রা মোহন ঘোষ ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এক শিক্ষক পরিবার

আপডেট : May, 18, 2021, 11:29 pm

স্টাফ রিপোর্টার->>>
সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের বড় হালিয়া গ্রামের গোপাল বাড়ির মামলাবাজ যাত্রা মোহন ঘোষ ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন এক শিক্ষক দম্পতি। শুধু তাই নয়, তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।
একের পর এক মামলা হামলা চালিয়ে সংখ্যালঘুর ধোয়া তুলে হয়রানি করে যাচ্ছে ও শিক্ষক দম্পতিকে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিভিন্ন দফতরে ভুয়া অভিযোগ এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে শিক্ষক দম্পতির মালিকীয় দখলীয় জমি জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন যাত্রা মোহন ঘোষ ও তার সহযোগিরা। কথায় কথায় সংখ্যালঘুর ধোয়া তুলে স্বস্তা মানবিক সহযোগিতা পাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন যাত্রা মোহন ঘোষ ও তার সহযোগিরা। থানায় ও আদালতে হয়রানিমূলক অভিযোগ এনে পরিবারটিকে বিষিয়ে তুলেছেন যাত্রা মোহন গং। অসহায় শিক্ষক দম্পতি আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সহ সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাদের সহযোগিতাও কামনা করেছেন। মামলা, হামলা ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পরিবারটি হচ্ছে পাশের গ্রামের প্রতিবেশী ইছাপুর গ্রামের বাসিন্দা, সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার, বর্তমান ইছাপুর কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক এবিএম আবদুল করিম, তার স্ত্রী পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা শাহীনা আক্তার এবং তার সন্তানরা। জমি জবর দখলে ব্যর্থ হয়ে যাত্রা মোহন ঘোষ গং এখন সংঘবদ্ধভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির অভিযোগ। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, এবিএম আবদুল করিমের মালিকীয় দখলীয় বগাদানা ইনিয়নের বড় হালিয়া মৌজার মধ্য দাড়রা ৯৯নং, এসএ ৮৭নং ও বিএস ২১০নং খতিয়ানের সাবেক ১৯ দাগে বিএস ৩৪ দাগে নক্সামতে ৪৭শকত আন্দরে ২শতক সহ একই দাগ খতিয়ান ও নক্সায় আরো ৪শতক সহ মোট ৬শতক জমি ভুয়া খতিয়ান সৃজন সহ জবর দখলের পাঁয়তারা করে চলেছে যাত্রা মোহন ঘোষ। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবিএম আবদুল করিম উক্ত জাল খতিয়ানের বিরুদ্ধে ফেনীর সহকারি জজ আদালতে ২০২১ সালের ৯ফেব্রুয়ারি একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় হেরে যাওয়ার ভয়ে যাত্রা মোহন ক্ষিপ্ত হয়ে এবিএম আবদুল করিম গংদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কাল্পনিক অভিযোগ এনে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সাথে বাস্তবতার কোন মিল না থাকলেও আদালতের নোটিস পেয়ে শিক্ষক দম্পতি আবদুল করিম গং চরম হতাশ হয়ে পড়েন।
এর আগেও ফেনীর আদালতে শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করে বহুদিন হয়রানি করে এক পর্যায়ে মামলায় হেরে যাওয়ার ভয়ে যাত্রা মোহন মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। এর কিছু দিন যেতে না যেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একটি হয়রানিমূলক আবেদন করে দুই জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে শিক্ষক দম্পতির কাছ থেকে জমি পরিমাপের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির কথা বলে যাত্রা মোহন ঘোষ ও দুই জনপ্রতিনিধি পরস্পর যোগসাজসে শিক্ষক দম্পতিকে জিম্মি করে মোট এক লাখ ৫৫হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
এতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে সোনাগাজী থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সোনাগাজী মডেল থানার এসআই আনোয়ার হুসেনের মধ্যস্থতায় তার মনোনীত জসিম আমিন দিয়ে উক্ত জমি পরামাপ করতে গেলে যাত্রা মোহন ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অনৈতিক ও পেশী শক্তির প্রভাব বিস্তারের কারণে এক পর্যায়ে জসিম আমিন পরিমাপ অসমাপ্ত রেখে চলে আসতে বাধ্য হন।
এবিএম আবদুল করিমের পুকুর পাড়ে তার স্ত্রীর লাগানো ৩টি কড়ই গাছ যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা, যাত্রা মোহ সংখ্যালঘুর ধোয়া তুলে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে উক্ত গাছগুলো লুট করে নিয়ে যায়। কিন্তু প্রতিকার চেয়ে অসহায় শিক্ষক দম্পতি জনপ্রতিনিধি সহ প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কোন প্রতিকার পাননি। একটি অদৃশ্য শক্তির তদ্বিরের কারণে স্থানীয় ক্ষমাতাসীণ দলের নেতারাও শিক্ষক পরিবারকে সহায়তা করতে সাহস পাননি। সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রা মোহন ঘোষ সোনাগাজী মডেল থানায় ওই শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে ফের আরো একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়ের করেন। অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করেছেন সোনাগাজী মডেল থানার এএসআই আবদুল মতিন। ঘটনার সাথে বাস্তবতার কোন মিল না থাকলেও যাত্রা এবার ভিন্ন তরিকায় সংখ্যালঘুর ধোয়া নিয়ে পেছনের দরজায় যাত্রা শুরু করেন। সে যাত্রায় তিনি সংখ্যালঘুর ধোয়া তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকদের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে হয়রানিমূলক অপপ্রচার চালাতে থাকেন। সামাজিক মর্যাদাহানির হীন উদ্দেশ্যে যাত্রার এই অপপ্রচারে মানুষ গড়ার কারিগর ওই শিক্ষক দম্পতির জীবন হয়ে উঠে চরম দূর্বিষহ। যাদের হাতে গড়া সন্তানরা দেশের পথে প্রান্তরে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, তাদের কাছে হয়ে পড়েছেন তারা যেন চরম অপরাধী। যাত্রা মোহন ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অত্যাচার, নির্যাতন এবং অপপ্রচার থেকে পরিত্রাণ চেয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও র‍্যাবের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন ওই শিক্ষক দম্পতি। এর আগে ফেনীর ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে একটি ভুয়া অভিযোগ করেছিলেন যাত্রা মোহন। ডিবি পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে যাত্রাকে মোহনকে তিরস্কারও করেছিলেন।
এবিএম আবদুল করিম সাবেক একজন ব্যাংকার, একটি কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক, ফেনী নাসির মেমোরিয়াল কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য এবং মাওলানা পড়া সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন সামজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে সমাজ সেবাও করে যাচ্ছেন। তার এই সমাজিক সুনাম নষ্ট করতে মামলাবাজ ও সন্ত্রাসী ভাড়াকারী যাত্রা মোহনের সাথে যোগ হয়েছে সমাজের দুষ্টু চক্র একটি কুচক্রি মহল। সব মিলিয়ে যাত্রা মোহন, তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও কুচক্রিদের যৌথ পরিচালিত অত্যাচারে শিক্ষক দম্পতি চরম মানবেতর জীবন যাপনের পাশাপশি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।