সোনাগাজীতে ইউনিক আইডির জন্য অনলাইন নিবন্ধন নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

আপডেট : May, 25, 2021, 4:58 pm

জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
ঢাকায় জন্মনিবন্ধন সার্ভার বন্ধ থাকায় সোনাগাজীতে ইউনিক আইডির জন্য অনলাইন নিবন্ধন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন, শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ নিয়ে নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে অনেকেই ইউনিক আইডির নিবন্ধন করতে পারা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা। হতাশায় ভুগছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। অনলাইনে নিবন্ধিত ভুলেভরা জন্ম সনদের জটিলতার কারণেই দেখা দিয়েছে এই জটিলতা।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। এই লক্ষ্যে অনলাইনে ডাটাবেজ তৈরী তথা নিবন্ধন করতে বেশ কিছু শর্ত জুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী ৩০ মে’র মধ্যে সকল শিক্ষার্থীদের শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়ীত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদে সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে, এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সকল ছাত্রীদের জন্য- (ক) শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন দুই কপি ছবি। (খ) শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্মনিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি একটি।
(গ) ছাত্র/ছাত্রীর রক্তের গ্রুপ সনাক্তের মেডিকেল রিপোর্ট এর কপি। (ঘ) শিক্ষার্থীর মায়ের জন্মনিবন্ধন ও NID কার্ডের ফটোকপি + মায়ের মোবাইল নম্বর কার্ডের পিছনে লেখা। (ঙ) শিক্ষার্থীর বাবার জন্মনিবন্ধন ও NID কার্ডের ফটোকপি+ বাবার মোবাইল নম্বর কার্ডের পিছনে লেখা। (চ) শিক্ষার্থীর পিতা বা মাতা জীবিত না থাকলে অভিভাবকের NID কার্ডের ফটোকপি+ তার মোবাইল নম্বর কার্ডের পিছনে লেখা। (ছ) ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রীর রেজিস্টেশন কার্ডের ফটোকপি। (জ) ৬ষ্ঠ ,৭ম শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রীর ৫ম শ্রেণির সমাপনী সনদের ফটোকপি। (ঝ) পিইসি/জেএসসি নম্বরফর্দের ফটোকপি। (ঞ) প্রতিবন্ধী হলে প্রতিবন্ধী সনদের ফটোকপি, একইভাবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্যও প্রযোজ্য। উক্ত কাগজপত্র যথা সময়ে যে দিতে পারবে না, তার আইডি কার্ড হবে না। ভবিষ্যতে যে কোন সমস্যার জন্য উক্ত শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক দায়ী থাকবেন। এমন নোটিস দিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা।
দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অধিকাংশ জন্মনিবন্ধন সনদে নাম, পিতা-মাতা, ঠিকানাগুলো রয়েছে ভুলে ভরা। এই ভুলগুলোর জন্য অনেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাদের দায়ী করেছেন। তারা ডাটাবেজ তৈরীর সময় ভুল তথ্য সরবরাহ করেছেন। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা কাম কম্পিউটার অপরেটরেরা ভুল তথ্য সরবরাহ করেছেন। কারণ তারা এই ভুল সংশোধনীর নামে জনগণের কাছ থেকে নানা অংকে টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন। শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ তৈরীর এই সময়ে সংশোধনীর জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও কম্পিউটার দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সংশোধনী করতে গিয়ে পোহাতে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনা। সার্ভার বন্ধ অথবা সার্ভারে প্রবেশ করলে মা-বাবা জীবিত থাকলেও সার্ভার থেকে চাওয়া হচ্ছে মা-বার মৃত্য তারিখ। আবার সংশোধনের ক্ষেত্রেও জড়িয়ে দেয়া হয়েছে নানা শর্ত। এভাবেই সংশোধন হচ্ছেনা ভুলেভরা জন্মসনদগুলো। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। করোনা ভাইরাসের মহামারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সরকারি এই সিদ্ধান্তের কারণে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভিড় করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও এই কাগজপত্র জমা দিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভিড় জমাচ্ছেন। বগাদানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসহাক খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনলাইনে তার পিতার নাম ভুলভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে রয়েছে। সংশোধনীর ক্ষেত্রে সব শর্ত শিথিল করে সবার জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানান তিনি। আরিফুল হক অয়ন নামে এক অভিভাবক বলেন, ২০০৯ সালে ছেলে-মেয়ের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত জন্ম সনদ পেয়েছিলাম। এখন দেখি পরিষদের খাতায়ও নেই, আবার ওয়েভসাইটেও তাদের নিবন্ধন নেই। এই দুঃখ কাকে বলব?
সোনাগাজী আল-হেলাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তির সত্যতা শিকার করে জন্মনিবন্ধন সংশোধন পদ্ধতি সহজ করার দাবি জানিয়েছেন। মিজানুর রহমান নামে এক অভিভাবক বলেন, সন্তানের ভুলে ভরা জন্ম সনদ নিয়ে চরম বিপাকে আছি। আবিদ হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, ছেলে মেয়ের অনলাইন সিস্টেম নিয়ে মহা পেরেশানে আছি। আল্লাহ মাবুদ যদি উন্নত দেশের মত আমাদের দেশের সরকারের সিস্টেম উন্নত করে দেন। তাহলে আমরা মুক্তি পাবো। পদে পদে ভোগান্তি আর ভালো লাগছেনা।