সোনাগাজীতে হতদরিদ্র প্রকল্পের টাকায় স্কেভেটর মেশিন দিয়ে খাল খনন, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দু’পাড়ের কয়েক হাজার গাছ কাটার অভিযোগ

আপডেট : June, 14, 2021, 8:09 pm

স্টাফ রিপোর্টার->>>
সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ফেনীর সোনাগাজীতে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ইউপি সদস্যেরর বিরুদ্ধে হতদরিদ্র প্রকল্পের টাকায় স্কেভেটর মেশিন দিয়ে খাল খননের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, কয়েক হাজার গাছ কেটে এলাকাবাসীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করারও অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ারও অশঙ্কা করেছে এলাকাবাসী। সরকারি নীতিমালা ও গ্রামবাসীর বাধা উপেক্ষা করে গত তিন দিনে খালের দু’পাড়ে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে ওই ইউপি সদস্য। তিনি চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরশাহাভিকারী গ্রাম ও চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মোহনার শকুনিয়া শাখা খালে এ নৈরাজ্য চালান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের নামে ইউনিয়ন পরিষদ খাল খননের জন্য হতদরিদ্র প্রকল্পের তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত প্রকল্পের কাজ হতদরিদ্র শ্রমিকদের দিয়ে সম্পাদন করতে হবে। শ্রমিকদের স্বাক্ষর নিয়ে তাদের মজুরী প্রদান করার কথা রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত লাভ ও লোভের বশিভুত হয়ে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন একটি স্কেভেটর মেশিন ভাড়া করেন। ভাড়াকৃত স্কেভেটর মেশিন দিয়ে খাল খনন কাজ শুরু করেন তিনি। খালের দু’পাড়ে থাকা গ্রামবাসীর বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেন। তার প্রতিহংসার তান্ডবে গ্রামবাসীর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সোমবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার গাছগুলো না কাটার শর্তে দেলোয়ার হোসেন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাকে দাবিকৃত ৫০হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ায় প্রতিহিংসা বশত দেলোয়ার হোসেন তার দুই সহস্রাধিক বিভিন্ন গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি করেছেন। একই অভিযোগ করেছেন উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের নূর আলম সুমন, দক্ষিণ চরশাহাভিকারী গ্রামের রবিন্দ্র কুমার দাস, আবু তাহের, রতন চন্দ্র দাস, পরিমল চন্দ্র দাস, হরলাল চন্দ্র দাস, চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মহেশ্চর গ্রামের সুধীর চন্দ্র দাস, মতি লাল দাস ও তুষার চন্দ্র দাস সহ অনেকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল হায়াত বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন চাঁদা দাবির বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, বর্ষা মৌসুমে লেবার দিয়ে খাল সংস্কার কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খাল কখন করেছি।
চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ভূট্টো বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি স্কেভেটর মেশিন দিয়ে খাল কাটার সময় কিছু মানুষের গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী কাল মঙ্গলবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।