সোনাগাজীতে সড়কে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট : July, 12, 2021, 12:34 am

স্টাফ রিপোর্টার->>> ফেনীর সোনাগাজীতে স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি সড়ক নির্মাণে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যাবহার সহ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নির্মাণ কাজে বাধা দিলে উপজেলা প্রকোশলী ঘটনাস্থলে গিয়ে দরপত্র মোতাবেক কাজ আদায়ের আশ্বাস দিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করেন। তিনি সড়কের বলি ও খোয়ার মিক্স সামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষার জন্য ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছেন। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সোনাগাজী অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ২ হাজার ৫৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দৌলতকান্দি-পানের বর কুদ্দুস মিয়ার ব্রিক ফিল্ড সড়ক ও ৪৮৫ মিটার দৈর্ঘ্যের মৌলভী সুলতান আহম্মদ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা সড়ক উন্নয়নের কাজের জন্য ১ কোটি ৭৫লাখ ২৯হাজার ৪২০টাকা ৬৪ পয়সা বরাদ্দ দেয়া হয়। জিএনপি-৩ প্যাকেজের এই কাজটি পান দাগনভূঞা একাডেমি রোডস্থ মেসার্স সেঞ্চুরি ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সরেজমিনে কাজ করাচ্ছেন মমো ট্রেড লিংকের ঠিকাদার মো. পিংকু নামের একজন ঠিকাদার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণে বক্স কার্টিংয়ে বলি ভরাটের পরের স্তরে বালি ও খোয়া অর্ধেক অর্ধেক মিক্স করার কথা রয়েছে। কিন্তু সেখানে বালির সাথে নামমাত্র খোয়া মিক্স করা হচ্ছে। তাও তিন নাম্বার পঁচা ইটের খোয়া। সামান্য বৃষ্টির পানিতে পুরো বক্সে ডাম্পিং শুরু হয়েছে। এছাড়া মূল সড়কের পাশে এজেন্ট হিসেবে এক নাম্বার ইট বসানোর কথা থাকলেও বসানো হচ্ছে দুই নাম্বার ইটের এজেন্ট। গত ৭ জুলাই বুধবার দুপুরে নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে নির্মাণ কাজে বাধা দেন বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন খান ঘটনাস্থলে গিয়ে নিন্মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যাবহার ও অনিয়মের সত্যতা পান। তিনি খোয়া ও বালির মিকচার সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠান। কাজের গুণগতমান দরপত্র অনুযায়ী আদায় করার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত করেন তিনি। এছাড়া ঠিকাদারকে দরপত্রের শর্ত মোতাবেক কাজ করার নির্দেশ দেন। ঠিকাদারী কাজের সাথে জড়িত মমো ট্রেড লিংকের স্বত্ত্বাধিকারী ঠিকাদার মো. পিংকু বলেন, খোয়াগুলো ব্রিকফিল্ড থেকে কেনা হয়েছে। অনেক সময় নিন্মানের কিছু খোয়া চলে আসে। শ্রমিকরা মিকচারে ভুল করে থাকতে পারে। এলাকাবাসীর অভিযোগের পর সেগুলো ঠিক করে দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন খান বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য মিকচার নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।