সেনসিভ হাসপাতালে মালামাল লুটের ঘটনায় শুসেন শীল সহ ফের ৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : February, 22, 2022, 7:01 am

স্টাফ রিপোর্টার->>>ফেনী শহরের সেনসিভ হাসপাতাল তালা লাগিয়ে দখলের পর মালামাল লুটের ঘটনায় ফের মামলা দায়ের করেছেন হাসপাতালটির ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন নাহার।
মামলায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শুসেন চন্দ্র শীলসহ ১১জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নং-সিআর ১৪২/২২।
২০ ফেব্রুয়ারি রোববার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে মামলাটি করেন তিনি। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ কে (ডিবি পুলিশ) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামী শুসেন চন্দ্র শীল ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। মামলার অপর আসামিরা হলেন— সোনাগাজী উপজেলার গুণক গ্রামের আবদুর রবের ছেলে আবদুল আউয়াল সবুজ, ফেনী সদর উপজেলার বারাহিপুর গ্রামের এমরান হোসেনের ছেলে আবির হোসেন, মধ্যম ধলিয়া গ্রামের শামসুল করিম প্রকাশ কালা মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম, ইজ্জতপুর গ্রামের মৌলভী আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল আউয়াল, সাঁড়াশিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে আজাহার, জালাল আহমেদ বধির ছেলে রাজিব আহমেদ, মরুয়ার চর গ্রামের নুরুল করিম ড্রাইভারের ছেলে জিয়া উদ্দিন বাবলু, কাতালিয়া গ্রামের মো. ইলিয়াছের ছেলে আবদুর শুক্বুর মানিক, দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে কপিল উদ্দিন, সোনাগাজী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুর রউফেের ছেলে মোশারফ হোসেন সহ অজ্ঞাতনামা ৬০ জন।
বাদী ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিমের সহধর্মিণী লুৎফুন্নাহার।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, ফেনী ট্রাংক রোডস্থ সেনসিভ হাসপাতালটি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ১, ২ ও ৩নং আসামিসহ অন্যরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই সময় তিনি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন, যার পিটিশন নং-১২৩/১৮।
পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে বাদী সরল বিশ্বাসে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা সশস্ত্র অবস্থায় হাসপাতালে প্রবেশ করে বাদী ও হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে খুঁজতে থাকেন। তাদের না পেয়ে হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স, চিকিৎসকসহ কর্মচারীদের জিম্মি করেন। এর পর তাদের হাসপাতাল ত্যাগের নির্দেশ দেন। চিকিৎসক-কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগে অনীহা দেখালে তাদের কিল, ঘুষি মেরে আহত এবং নারী নার্সদের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করেন।
একপর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালক ফজলুল হক মুন্নাকে ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকের চাবি নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে থাকা নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা, ক্যাশে থাকা এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ দেড় লাখ টাকা এবং পাঁচটি ব্যাংকের চেকবইসহ মূল্যবান কাগজপত্র আসামিরা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ক্যাবিনে এবং ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের হাসপাতাল ত্যাগে বাধ্য করে। রোগীরা নিজ উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন। হাসপাতালে কর্তব্যরতদের বের করে দিয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। যাওয়ার সময় দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ না করে তালা খোলার চেষ্টা করলে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পরিচালককে গুলি করে হত্যা এবং হাসপাতালে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। এর পর আসামিরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়। ১১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে আসামীরা হাসপাতালের সাইন বোর্ডটিও খুলে নিয়ে যায়।
১০ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালটিতে তালা লাগানোর ঘটনায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার একই আদালতে হাসপাতালটির ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন নাহার শুসেন সহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।মামলা নং-সিআর ১৩৫/২২। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর দাবী আদালতে মামলা দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা তালা খুলে হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মালামাল লুটে নিয়েছে।