টানা দাবদাহের পর তেঁতুলিয়ায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি

আপডেট : June, 12, 2023, 4:42 pm

টানা কয়েক দিনের দাবদাহের পর অবশেষে দেশের সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রথম বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর রাতভর পঞ্চগড় জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে এই বৃষ্টি হয়। চলে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত। টানা তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে জনজীবনে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৯টার দিকে তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত (গত ২৪ ঘণ্টায়) তেঁতুলিয়ায় ১১৩ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে টানা দুই সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ে তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এই সময়টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছিল।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ হতে চললেও বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছিল। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ রোদে বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছিলেন না। এরই মধ্যে গতকাল বিকেলে আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখে মানুষের মধ্যে বৃষ্টি নিয়ে আশার সঞ্চার হয়। এরপর সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়ায় বৃষ্টি শুরু হয়। তখন পঞ্চগড় জেলা শহরে বৃষ্টি না হলেও আবহাওয়া অনেকটা ঠান্ডা হয়ে আসে। এরপর মধ্যরাতে শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হলে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘টানা কয়েক দিনের তীব্র গরমে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। প্রচণ্ড রোদ ছিল, মাঝেমধ্যে বাতাসও থাকত না। তখন খুব কষ্ট হতো। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিতে স্বস্তি মিলেছে।’
পঞ্চগড় জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক আজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘স্বস্তির বৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পর মনে হলো রাতে শান্তিতে ঘুমিয়েছি।’

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ প্রথম আলোকে বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাস শেষ হতে চললেও এবার তেঁতুলিয়ায় তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। তীব্র গরমে মানুষ বেশ দুর্ভোগে পড়েছিল। তবে এবার এক রাতেই ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। যেহেতু বর্ষাকাল আসছে, এখন থেকে নিয়মিত বৃষ্টি হবে বলে আশা তাঁর।